নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আহত ৯, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আহত ৯, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আহত ৯, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন..
নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আহত ৯, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন..
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।..

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর বাজারের জালালপুর এলাকায় গত রোববার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও ঢাকাগামী একটি বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় বাসের তিন নারী ও ছয় পুরুষ যাত্রীসহ মোট ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে এবং আহতদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সিলেটগামী বাসটি মহাসড়কের ওই পয়েন্টে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ধাক্কা লাগে, যার ফলে উভয় যানের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা গুরুতর জখম হন। ঘটনার আকস্মিকতায় মহাসড়কের ওই অংশে দীর্ঘসময় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং উদ্ধারকৃত মালামাল যাত্রীদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতি ও চালকদের অসতর্কতা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। আহত যাত্রীদের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এই অংশটিতে নিয়মিত বিরতিতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের নজরদারি অত্যন্ত নগণ্য। ভুক্তভোগীদের দাবি, বালুবাহী ট্রাকগুলো প্রায়শই নিয়ম না মেনে মহাসড়কের মাঝ দিয়ে চলাচল করে, যার ফলে বিপরীতমুখী দ্রুতগামী বাসগুলোর পক্ষে সময়মতো ব্রেক কষা বা সংঘর্ষ এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আহত যাত্রী জানান, ঘটনার সময় বাসটি স্বাভাবিক গতিতেই ছিল, কিন্তু হঠাৎ ট্রাকটি সামনে চলে আসায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। যাত্রীদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কের ওই অংশে দীর্ঘক্ষণ একমুখী যান চলাচল করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। উদ্ধারকাজ চলাকালীন যানজট নিরসনে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে সরাতে রেকার ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চালকদের অদক্ষতা নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি তা নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও, মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত বালুবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায় নিরূপণে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়টি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বারবার একই ধরনের সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটলেও মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা দূর না হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে। সাধারণ মানুষ এখন মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন। এই দুর্ঘটনার প্রভাব হিসেবে মহাসড়কের ওই পয়েন্টে এখন বিশেষ সতর্কবার্তা ও অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজন অনুভব করছেন নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী ও পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা।

No comments found


News Card Generator