আজকের মুদ্রার রেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আজকের মুদ্রার রেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আজকের মুদ্রার রেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আজকের মুদ্রার রেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ ও সর্বশেষ বিনিময় হারের বিস্তারিত চিত্র।..

১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা ক্রয় এবং ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সা বিক্রয় মূল্যে নির্ধারিত হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির চলমান অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার চাহিদার পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ সময় ধরেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান চাপের মুখে রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও, আমদানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে ডলারের ক্রমবর্ধমান এই দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আজকের লেনদেনে গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৩৩ পয়সা থাকলেও, বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রার এই বিনিময় হার যেকোনো মুহূর্তে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাপেক্ষে নতুন মোড় নিতে পারে, যা দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

মুদ্রা বাজারের এই অস্থিরতায় সাধারণ ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত, তারা ডলারের এই উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের মতে, ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার উপরে স্থিতিশীল হয়ে যাওয়া মানে হলো আমদানিকৃত কাঁচামালের খরচ বৃদ্ধি পাওয়া, যার চূড়ান্ত দায়ভার শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বর্তায়। এছাড়া, ইউরো ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ড ১৬৪ টাকা ৭৩ পয়সা দরে বিক্রয় হওয়ার বিষয়টি ইউরোপীয় ও ব্রিটিশ বাজারের সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। স্থানীয় বাজারে মুদ্রার এই উচ্চমূল্য কেবল মুদ্রাস্ফীতিকেই উসকে দিচ্ছে না, বরং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকেও অনিশ্চিত করে তুলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের ভাষ্যমতে, বিশ্ববাজারে মুদ্রার ওঠানামা ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানানো হলেও, বাস্তবে ডলারের সংকট কাটানো এবং বাজার দর স্বাভাবিক রাখার কার্যকর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সৌদি রিয়েল ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা এবং ইন্ডিয়ান রুপি ১ টাকা ২৭ পয়সা দরে লেনদেন হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের সাথে বাণিজ্য সহজীকরণ প্রক্রিয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র মুদ্রার বিনিময় হার ঘোষণা করলেই হবে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ এবং হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে মুদ্রাবাজারের এই অস্থিরতা থেকে উত্তরণ অসম্ভব।

মুদ্রাবাজারের এই ধারাবাহিক অস্থিরতা ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীরগতির করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং টাকার অবমূল্যায়ন অব্যাহত থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে ফেলবে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত মুদ্রানীতিতে আরও কঠোর ও বাস্তবসম্মত সংস্কার আনা এবং মুদ্রার বিনিময় হারকে একটি সহনশীল পর্যায়ে ধরে রাখার জন্য কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে মুদ্রাবাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি সতর্ক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

Geen reacties gevonden


News Card Generator