চট্টগ্রামে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার: ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’র নেপথ্য কারিগর গ্রেপ্তার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চট্টগ্রামে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার: ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’র নেপথ্য কারিগর গ্রেপ্তার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
চট্টগ্রামে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার: ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’র নেপথ্য কারিগর গ্রেপ্তার..
চট্টগ্রামে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার: ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’র নেপথ্য কারিগর গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর দায়ে চট্টগ্রাম থেকে শহিদুল ইসলাম ওরফে রুবেল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।..

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার আই-ব্লক এলাকা থেকে গত শনিবার রাত আটটার দিকে শহিদুল ইসলাম ওরফে রুবেল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ৩৭ বছর বয়সী এই যুবক ফেনী সদর থানার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ ফরহাদনগর গ্রামের কামাল পাশার ছেলে এবং বর্তমানে নগরের জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। তিনি নিজেকে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামক একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দাবি করতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে তাকে আটকের সময় বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল প্রমাণাদি জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, শহিদুল ইসলাম অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ১০ থেকে ১২টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ পরিচালনা করছিলেন, যার মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ এবং ফেনী জেলা শাখার ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ অন্যতম। ‘মো. শহিদুল ইসলাম’ নামক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তিনি নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক পোস্ট ও বিভ্রান্তিকর বার্তা প্রচার করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে শহিদুল অদ্ভুত দাবি করেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, যা মূলত তার নেটওয়ার্কের সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুয়া প্রভাব তৈরির একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় পর্যায়ে তার কর্মকাণ্ড কেবল ডিজিটাল জগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নগরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিল ও সভা-সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে তিনি মাঠ পর্যায়েও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এই ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শহিদুলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি মামলা রয়েছে। নিয়মিত নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং তার ডিজিটাল কার্যক্রমের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনি একটি সুসংগঠিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটনে ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের একটি বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির এই প্রবণতা বর্তমান সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শহিদুলের মতো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং সাইবার স্পেসে গুজব ও বিভ্রান্তি রোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ নাগরিকরা কোনো প্রকার উসকানিমূলক তথ্যের ফাঁদে না পড়েন এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator