লা লিগায় বার্সেলোনার ঐতিহাসিক জয়যাত্রা: রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডে ভাগ বসাল কাতালানরা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

লা লিগায় বার্সেলোনার ঐতিহাসিক জয়যাত্রা: রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডে ভাগ বসাল কাতালানরা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
লা লিগায় বার্সেলোনার ঐতিহাসিক জয়যাত্রা: রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডে ভাগ বসাল কাতালানরা..
লা লিগায় বার্সেলোনার ঐতিহাসিক জয়যাত্রা: রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডে ভাগ বসাল কাতালানরা..
ছবি: সংগৃহীত
স্প্যানিশ লা লিগায় রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে পরাজিত করে টানা নবম জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা, যা ক্লাবটিকে ১৯৬৯ সালের রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক রেকর্ডের সমান্তরালে নিয়ে এসেছে।..

চলতি মৌসুমের স্প্যানিশ লা লিগায় বার্সেলোনা তাদের আধিপত্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শনিবার রাতে লা কারতুহা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নবম রাউন্ডের ম্যাচে রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে কাতালান জায়ান্টরা তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। এই জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনা মৌসুমের প্রথম নয়টি ম্যাচেই পূর্ণ পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে, যা তাদের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। পরিসংখ্যান ভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মিস্টার চিপের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৮-১৯৬৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের টানা নয় ম্যাচ জয়ের যে রেকর্ডটি দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে ছিল, বার্সেলোনা এবার সেই রেকর্ডে ভাগ বসাতে সক্ষম হয়েছে। এই জয় কেবল পয়েন্ট অর্জনের মাইলফলক নয়, বরং এটি বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনের এক চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বার্সেলোনার এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে তাদের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ। চলতি মৌসুমে প্রথম নয় রাউন্ডে প্রতিপক্ষের জালে ৩৯ বার বল জড়িয়েছে তারা, যা লা লিগার ইতিহাসে এই পর্যায়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। গোল করার এই অবিশ্বাস্য হার প্রমাণ করে যে দলটির বর্তমান সমন্বয় এবং কৌশলগত বিন্যাস প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দিতে সক্ষম। যদিও ১৯৪০-১৯৪১ মৌসুমে সেভিয়া প্রথম নয় ম্যাচে ৪২টি গোল করে তালিকার শীর্ষে রয়েছে, তবে বার্সেলোনার বর্তমান ফর্ম এবং খেলার ধরন ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে যেকোনো সময় সেই রেকর্ডকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ভুক্তভোগী রিয়াল বেতিসের রক্ষণভাগ এই ম্যাচে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ডদের গতির কাছে পুরোপুরি অসহায় ছিল, যা মাঠের বাস্তবতায় কাতালানদের একক কর্তৃত্বকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, গোল ব্যবধানের ক্ষেত্রেও বার্সেলোনা এখন ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্থায়ীভাবে খোদাই করে নিয়েছে। নয় ম্যাচ শেষে ৩৯ গোল করার পাশাপাশি মাত্র ৯টি গোল হজম করায় তাদের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩০-এ। ১৯৮৭-১৯৮৮ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ৩২ গোল করে এবং মাত্র ২টি গোল হজম করে যে ৩০ গোল ব্যবধানের রেকর্ড গড়েছিল, বার্সেলোনা দীর্ঘ সময় পর সেই সমীকরণ স্পর্শ করেছে। পয়েন্ট টেবিলে এখন ২৭ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। রিয়াল বেতিস ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও, বার্সেলোনার এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার সামনে পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।

পরিশেষে, বার্সেলোনার এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স কেবল লা লিগার শিরোপা লড়াইকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলেনি, বরং ইউরোপীয় ফুটবলে দলটির শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে নতুন করে সামনে এনেছে। মৌসুমের শুরুতে যে ছন্দ তারা প্রদর্শন করছে, তা বজায় থাকলে লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি গোলবন্যা এবং রেকর্ড ভাঙার নতুন নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা তাদের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। এই জয়ের প্রভাব কেবল পয়েন্ট টেবিল নয়, বরং প্রতিপক্ষ দলগুলোর মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে, যা আগামী ম্যাচগুলোতে বার্সেলোনাকে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।

No comments found


News Card Generator