অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, চাঁদপুর পুলিশের হাতে আরও ৩ জন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, চাঁদপুর পুলিশের হাতে আরও ৩ জন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, চাঁদপুর পুলিশের হাতে আরও ৩ জন..
অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, চাঁদপুর পুলিশের হাতে আরও ৩ জন..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার ..

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয় বলে চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সুমন ভূঁইয়া, মো. সাইফুল ইসলাম মামুন ও অনিক অধিকারী। তাঁরা সবাই নড়াইল জেলার কালিয়া থানার চাচুড়ী ও পেড়লী ইউনিয়নের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, একই ঘটনায় এর আগে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।

যেভাবে প্রতারণা করত চক্রটি

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে মাছসহ নানা পণ্যের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো সম্পাদনা করত। পরে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে ইলিশ মাছ, আসবাবপত্র, কলম, জুতা, শিশুদের খেলনা ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। পাশাপাশি অনলাইন চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপনও প্রচার করত তারা।

ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে লোভনীয় অফার দিয়ে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য ভুয়া পেজে নিজেদের তৈরি ইতিবাচক মন্তব্যও যুক্ত করত চক্রটি।

ভুয়া পরিচয়ে অগ্রিম টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পুলিশ আরও জানায়, ক্রেতারা যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্যরা অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো কিংবা ফোনে কথা বলত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে ‘নাহিদ’, ‘জাবেদ’, ‘হাজী আব্দুল কাদের’ ও ‘রফিকুল’-এর মতো নাম ব্যবহার করত তারা।

প্রতারণার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ভুয়া ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও জাল ক্যাশ ভাউচার তৈরি করে ক্রেতাদের পাঠানো হতো। পাশাপাশি নকল ওয়েবসাইটও তৈরি করেছিল চক্রটি বলে পুলিশের অভিযোগ।

ক্রেতারা অগ্রিম টাকা পাঠানোর পর প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হতো। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার

চাঁদপুর জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এতে জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা অংশ নেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করার পর গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর নড়াইলের কালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

১৬ অক্টোবর অভিযান শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে পুলিশ চাঁদপুরে ফিরে আসে। পরদিন তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সূত্র: চাঁদপুর জেলা পুলিশ।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator