ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে ৫ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের পরও মোতাওয়াল্লীকে হটানোর ষড়যন্ত্র.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে ৫ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের পরও মোতাওয়াল্লীকে হটানোর ষড়যন্ত্র..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে ৫ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের পরও মোতাওয়াল্লীকে হটানোর ষড়যন্ত্র..
ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে ৫ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের পরও মোতাওয়াল্লীকে হটানোর ষড়যন্ত্র..
ছবি: সংগৃহীত
ঐতিহ্যবাহী ওয়াক্‌ফ এস্টেটের আর্থিক সংকট নিরসনে নিজের সম্পদ বিক্রি করে ৫ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের পরও মোতাওয়াল্লীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তাকে অপসারণের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।..

রাজধানীর একটি ঐতিহ্যবাহী ওয়াক্‌ফ এস্টেটের উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে চরম অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে। এস্টেটটির মোতাওয়াল্লী ভবনের সংস্কার ও নির্মাণকাজে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করলেও ব্যবসায়িক মন্দার কবলে পড়ে বরাদ্দগ্রহীতাদের জমাকৃত অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটের সম্মুখীন হন। এই আর্থিক জটিলতা নিরসনের জন্য মোতাওয়াল্লী নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৫ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ পরিশোধ করেছেন, যা একটি নজিরবিহীন আত্মত্যাগের ঘটনা হিসেবে প্রতীয়মান। তবে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার পরিবর্তে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে মোতাওয়াল্লী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে তাঁকে অপসারণের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত এস্টেটটির নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই মহলটি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি।

ভুক্তভোগী মোতাওয়াল্লীর পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওয়াক্‌ফ এস্টেটের আর্থিক দায়ভার লাঘবে যখন নিজের বসতবাড়ি পর্যন্ত ব্যাংকে বন্ধক রাখতে হয়েছে, তখন একটি মহল এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এস্টেটের সুনাম ক্ষুণ্ন করার খেলায় মেতেছে। বরাদ্দগ্রহীতাদের প্রাপ্য অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হচ্ছে জেনেও কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ মানুষকে উসকে দিচ্ছেন। এই ধরনের অপতৎপরতার ফলে একদিকে যেমন এস্টেটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে মোতাওয়াল্লীর দীর্ঘদিনের শ্রম ও সততা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, যারা এস্টেটের উন্নয়নের জন্য নিজের সম্পদ উৎসর্গ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বলছে, মোতাওয়াল্লীকে অপসারণের উদ্যোগের আইনগত ভিত্তি ও বৈধতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের উচিত হবে, মোতাওয়াল্লীর আর্থিক আত্মত্যাগ এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা। কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে এবং এতে এস্টেটের সেবামূলক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তবে সঠিক তদন্ত ছাড়া কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

পরিশেষে, এই সংকটের সুষ্ঠু সমাধান না হলে ঐতিহ্যবাহী এই ওয়াক্‌ফ এস্টেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে যারা প্রতিষ্ঠানকে ঋণমুক্ত করার পথে এগিয়ে এসেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করলে ভবিষ্যতে জনকল্যাণমূলক কাজে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাবে। সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখতে এবং এস্টেটের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপই একমাত্র কাম্য। মিথ্যা অপবাদ ও ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে প্রতিষ্ঠানটি যেন পুনরায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসতে পারে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator