ময়মনসিংহে ডেঙ্গু মোকাবিলায় এনসিপির ‘প্রশাসকের ঘুম ভাঙানো’ কর্মসূচি: প্রশাসনের সক্রিয়তার দাবি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ময়মনসিংহে ডেঙ্গু মোকাবিলায় এনসিপির ‘প্রশাসকের ঘুম ভাঙানো’ কর্মসূচি: প্রশাসনের সক্রিয়তার দাবি..

Md Anisur Rahman avatar   
Md Anisur Rahman
ময়মনসিংহে ডেঙ্গু মোকাবিলায় এনসিপির ‘প্রশাসকের ঘুম ভাঙানো’ কর্মসূচি: প্রশাসনের সক্রিয়তার দাবি..
ময়মনসিংহে ডেঙ্গু মোকাবিলায় এনসিপির ‘প্রশাসকের ঘুম ভাঙানো’ কর্মসূচি: প্রশাসনের সক্রিয়তার দাবি..
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট নিরসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে ‘প্রশাসকের ঘুম ভাঙানো’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।..

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ময়মনসিংহ জেলা শাখা সম্প্রতি ‘প্রশাসকের ঘুম ভাঙানো’ নামক একটি ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং সরকারি পরিসংখ্যানের সাথে বাস্তব অবস্থার বিস্তর ফারাক থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তানহা শান্তার নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন আর কেবল পরিসংখ্যানের বিষয় নয়, বরং এটি একটি জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যে তথ্য প্রদান করা হচ্ছে, তা মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্রকে আড়াল করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে বাধ্য করা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এনসিপির নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনের নিয়মিত কার্যক্রমের যে দাবি করা হয়, তার প্রতিফলন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দেখা যাচ্ছে না। মাহমুদ হাসান সুহেল এ প্রসঙ্গে বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় এনসিপি বদ্ধপরিকর এবং যেখানে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, সেখানে শুধু দায়সারা পরিসংখ্যান দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। ওয়ার্ড পর্যায়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের এলাকায় নিয়মিত ফগার মেশিন ব্যবহার করা হয় না এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার কারণে মশার প্রজননক্ষেত্রগুলো দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে কেবল নথিপত্রে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের দাবি করাটা জনগণের সাথে এক ধরনের প্রতারণা। এনসিপি মনে করে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ওয়ার্ড পর্যায়ে মশা নিধন কার্যক্রম জোরালো করা হবে এবং সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।

কর্মসূচির এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির নেতারা বলেন, সিটি করপোরেশন জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান, তাই জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। তবে তারা অন্ধ সমালোচনার চেয়ে গঠনমূলক সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। কর্মসূচির তৃতীয় দিনে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করলেও এনসিপি নেতারা ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনকে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য আহ্বান জানান। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসন যদি আন্তরিকতার সাথে মশা নিধন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে এনসিপি জনস্বার্থে যেকোনো ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত রয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা সংঘাত নয়, বরং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা দূর করে প্রশাসনিক গতিশীলতা আনাই ছিল তাদের এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিশেষে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। এনসিপির এই কর্মসূচি কেবল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং এটি স্থানীয় সরকার প্রশাসনের প্রতি জনগণের একটি সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে যদি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে এবং জনস্বাস্থ্য খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এনসিপির এই উদ্যোগ নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনকে তাদের কর্মপরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

לא נמצאו הערות


News Card Generator