ঐশ্বরিয়া রাইকে ‘প্লাস্টিক’ সম্বোধন: ইমরান হাশমির বিতর্কিত মন্তব্য ও দীর্ঘদিনের রেশ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঐশ্বরিয়া রাইকে ‘প্লাস্টিক’ সম্বোধন: ইমরান হাশমির বিতর্কিত মন্তব্য ও দীর্ঘদিনের রেশ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ঐশ্বরিয়া রাইকে ‘প্লাস্টিক’ সম্বোধন: ইমরান হাশমির বিতর্কিত মন্তব্য ও দীর্ঘদিনের রেশ..
ঐশ্বরিয়া রাইকে ‘প্লাস্টিক’ সম্বোধন: ইমরান হাশমির বিতর্কিত মন্তব্য ও দীর্ঘদিনের রেশ..
ছবি: সংগৃহীত
বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমির এক দশকের পুরনো একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে আজও সরগরম বি-টাউন, যেখানে তিনি অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে ‘প্লাস্টিক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজের ভুল স্বীকার করলেও এই..

বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি ২০১৪ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ করণ’-এর চতুর্থ মৌসুমে উপস্থিত হয়ে অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে উদ্দেশ্য করে ‘প্লাস্টিক’ মন্তব্যটি করেছিলেন। অনুষ্ঠানের দ্রুত প্রশ্নোত্তর পর্বে সঞ্চালক করণ জোহরের করা প্রশ্নের জবাবে ইমরান তাৎক্ষণিক এই শব্দ প্রয়োগ করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও সেই মন্তব্যের রেশ কাটেনি, বরং বিভিন্ন সময়ে এই ঘটনাটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। ইমরান হাশমির এই মন্তব্য শুধু ঐশ্বরিয়াকেই নয়, বরং তার অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যেও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল, যা ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে ইমরান দাবি করেছেন যে, তিনি শো-এর গেম ফরম্যাটে জেতার মানসিকতা থেকে এমনটি করেছিলেন, কিন্তু তার এই অসংবেদনশীল আচরণ জনসমক্ষে তার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ইমরানের এই মন্তব্য নিয়ে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন সরাসরি কোনো উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় না করলেও, ২০১৯ সালে ফিল্মফেয়ারের এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সম্পর্কে শোনা সবচেয়ে খারাপ মন্তব্যের উত্তর দিতে গিয়ে ‘ভুয়া ও প্লাস্টিক’ শব্দ দুটি উল্লেখ করেছিলেন। এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে ইমরান হাশমির পুরনো মন্তব্যটির প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ভুক্তভোগী হিসেবে ঐশ্বরিয়া কখনোই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কোনো আইনি বা বড় ধরনের বিতর্কে জড়াননি, তবে ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর রটেছিল যে, ইমরান হাশমি যুক্ত আছেন এমন একটি সিনেমার প্রস্তাব পাওয়ার পর ঐশ্বরিয়া তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, সহকর্মীর মন্তব্যের প্রভাব এবং ব্যক্তিগত পেশাদারিত্বের জায়গায় ঐশ্বরিয়া কতটা সচেতন ও কঠোর অবস্থানে ছিলেন, যা বলিউডের পেশাদার সম্পর্কের সমীকরণকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে।

দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালে এসে ইমরান হাশমি তার অতীতের এই মন্তব্যের জন্য সরাসরি অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টিকে রুচিহীন বলে স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানটির কাঠামো এবং সঞ্চালকের প্ররোচনা তাকে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে এমন বিতর্কিত মন্তব্য করতে উৎসাহিত করেছিল। ইমরান আরও জানান, তিনি ঐশ্বরিয়ার একজন বড় ভক্ত এবং তার অভিনয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন, যা তিনি ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ সিনেমার সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রমাণ করতে চেয়েছেন। তবে এই অনুশোচনা প্রকাশের পরও ঐশ্বরিয়ার পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি গ্রহণ করার কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ইন্ডাস্ট্রির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ এবং তারকাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে উত্তরণের জন্য এই ধরনের অনুষ্ঠানের ফরম্যাট ও অতিথিদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

বলিউডের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়টি সময়ের সাথে সাথে কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়ছে, এই ঘটনাটি তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। ‘কফি উইথ করণ’-এর মতো অনুষ্ঠানগুলো টিআরপি বাড়ানোর নেশায় তারকাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিতর্কিত মন্তব্যে প্ররোচিত করার যে সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বিনোদন জগতের সুস্থ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাধারণ দর্শক ও ভক্তরা তারকাদের কাছ থেকে পরিশীলিত আচরণ প্রত্যাশা করেন, যা এই ধরনের ঘটনার কারণে বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে তারকাদের নিজেদের বাকসংযম ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়া অপরিহার্য, অন্যথায় তারকাদের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গাটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

没有找到评论


News Card Generator