রাজবাড়ীতে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পথে শীর্ষ সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাজবাড়ীতে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পথে শীর্ষ সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজবাড়ীতে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পথে শীর্ষ সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত..
রাজবাড়ীতে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পথে শীর্ষ সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত..
ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ী পৌর এলাকায় এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে পিয়ারুল ইসলাম নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ।..

রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এশার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পিয়ারুল ইসলাম নামক এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান যে তার শরীরে দুটি গুলির ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এই নৃশংস ঘটনাটি রাজবাড়ীর জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে জনবহুল একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকেই নির্দেশ করে।

নিহত পিয়ারুল ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারীপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিয়ারুল দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদকের অভিযোগে অন্তত ১৪টি মামলা চলমান রয়েছে। অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্ব অথবা দীর্ঘদিনের কোনো পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পাওয়া গেলেও, স্থানীয়রা মনে করছেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্মূল করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সজ্জনকান্দা এলাকাসহ পুরো পৌর এলাকায় এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ঘটনার পরপরই রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যানুযায়ী, অপরাধীদের শনাক্ত করতে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে হত্যাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অপরাধ জগতের যে কোনো ধরনের অস্থিরতা রোধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। যদিও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এলাকায় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের এমন ভয়াবহ পরিণতি পুলিশের নজরদারির সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

সামগ্রিকভাবে, রাজবাড়ীর এই হত্যাকাণ্ডটি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ সংকটের একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ, যা সাধারণ নাগরিক জীবনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতেও বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসীদের পারস্পরিক কোন্দলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও, মসজিদের সামনে প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ড জনমনে গভীর উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থার মতো জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অপরাধীরা যদি দ্রুত ধরা না পড়ে, তবে রাজবাড়ীর সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে অবিশ্বাসের দেয়াল আরও মজবুত হবে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator