দেবহাটায় হাসপাতাল থেকে তুলে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি ২৫০.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দেবহাটায় হাসপাতাল থেকে তুলে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি ২৫০..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
দেবহাটায় হাসপাতাল থেকে তুলে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি ২৫০..
দেবহাটায় হাসপাতাল থেকে তুলে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি ২৫০..
ছবি: সংগৃহীত
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম (নামেও পরিচিত শামীম) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম (নামেও পরিচিত শামীম) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিলের দায়ের করা মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দেবহাটা থানায় মামলাটি (নং-৯) দায়ের করা হয়। একই রাতে ও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের সুবর্ণাবাদ গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মোক্তার হোসেন (৫২) এবং নাজিরের ঘের গ্রামের রহিম বক্স মোল্লার ছেলে আসাদুল মোল্লা (৪৬)।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্ত গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবীকে কটূক্তি করার অভিযোগসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় একদল লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হওয়া লোকজনসহ প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন তাঁর বাড়ির কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং তাঁকে মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি বিষপান করেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কুলিয়া বাজারের ডা. এম এ সবুরের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি সাদিকুল ইসলামসহ শতাধিক ব্যক্তি ক্লিনিকটি ঘেরাও করেন। তাঁরা চিকিৎসা বন্ধ করতে বলেন এবং শামীমকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় চিকিৎসক তাঁকে বাইরে নিয়ে যেতে বলেন। পরে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু ওই রাত ১০টার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে কয়েক শ লোক হাসপাতাল ঘেরাও করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা হাসপাতালের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে নেয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং একটি দরজা ভেঙে ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের জিম্মি করে চিকিৎসা বন্ধ করা এবং শামীমকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে শামীমকে ওয়ার্ডের মেঝে ও দেয়ালে আছড়ে ফেলা এবং লাথি মেরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।


মামলায় ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের বিবস্ত্র ছবি প্রকাশ এবং ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের শামীমের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ না করতে এবং মুসলমানদের তাঁর গোসল ও জানাজায় অংশ না নিতে আহ্বান জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে শামীমকে হত্যা করার বিষয়ে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার বিবরণে ২০২৫ সালের মে মাসে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ পারুলিয়ার এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং অন্য কয়েকজনকে মারধরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


এদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে শামীম হত্যার সঙ্গে তাঁর দলের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিলের দায়ের করা মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন ২৫০ জন।

তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোক্তার হোসেনকে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে এবং আসাদুল মোল্লাকে শুক্রবার সকালে নাজিরের ঘের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের তদন্তে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, কীভাবে হাসপাতালের ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটল এবং এ ঘটনায় প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Nema komentara


News Card Generator