তালায় মাছ চুরির অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তালায় মাছ চুরির অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
তালায় মাছ চুরির অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ..
তালায় মাছ চুরির অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
তালায় মাছ চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ মারধর, প্রাণ গেল ক্ষিতিশ মণ্ডলের

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মাছ চুরির অভিযোগে ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল (৫৫) নামে এক মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জেয়ালা উত্তরখোলা বিলে একটি মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিহতের পরিবার।

নিহত ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল তালা উপজেলার জেয়ালা গ্রামের মৃত মনিন্দ্র মণ্ডলের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোররাত ৩টার দিকে জেয়ালা উত্তরখোলা সরকারি বিলের বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘের থেকে ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডলকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাছ চুরির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর ঘেরের কর্মচারী গফফার, শিমুল ঘোষ, হাবিবুর গাজী, ইব্রাহিম খাঁ, বিশ্বনাথ, সমর ঘোষসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। পাশাপাশি লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তাঁকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।


প্রত্যক্ষদর্শী পার্থ মণ্ডল ও প্রকাশ মণ্ডলসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর দুই হাত-পা ভাঙা এবং মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের ক্ষত দেখা গেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল বলেন, “স্বামীকে মারধরের খবর পেয়ে বিলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করি। তখনও তিনি কথা বলতে পারছিলেন। তিনি আমাকে মারধরে জড়িত কয়েকজনের নাম বলেছেন। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”


তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। এরই মধ্যে বেলা ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

তালা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মহসিন আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator