তারুণ্য ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তারুণ্য ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
তারুণ্য ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত..
তারুণ্য ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলা কবিতার অনন্য কণ্ঠস্বর ও প্রতিবাদী কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মস্থান মোংলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে।..

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ধারায় তারুণ্য, সাম্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী আজ শুক্রবার ১৬ অক্টোবর যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। কবির জন্মস্থান বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠেখালিতে রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া স্থানীয় মিঠেখালি ফুটবল মাঠে বাগেরহাট সোনালী অতীত ও মোংলা সোনালী অতীতের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সন্ধ্যায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ে ‘অন্তর বাজাও’ সংগঠনের পরিবেশনায় কবির রচিত গানের আসর অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৬ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণকারী রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ মাত্র ৩৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে বাংলা কবিতায় যে স্বতন্ত্র ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের ছাপ রেখে গেছেন, তা আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর অকাল প্রয়াণের তিন দশকেরও বেশি সময় পার হলেও তাঁর সাহিত্যকর্মের আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি, যা আজকের এই স্মরণানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।

কবির সান্নিধ্য পাওয়া অনুরাগী এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ ও আক্ষেপের জায়গাটি হলো, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতো একজন প্রথাবিরোধী ও বিপ্লবী কবির সাহিত্যকর্মের চর্চা জাতীয় পর্যায়ে যে মাত্রায় হওয়া প্রয়োজন ছিল, তা অনেকাংশেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজকদের মতে, কবির কবিতায় যে আপসহীন প্রতিবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে, তা আজকের অস্থির সময়ে অত্যন্ত জরুরি। মিঠেখালির সাধারণ মানুষ ও ভক্তরা মনে করেন, কবির জন্মভিটায় একটি স্থায়ী গবেষণাগার বা গ্রন্থাগার নির্মাণ করা গেলে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শকে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো। তারা জানান, কবির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে কেবল বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা যথেষ্ট নয়, বরং তাঁর বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার দর্শনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে। এই দাবিটি দীর্ঘদিনের হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তা বাস্তবায়নের গতি শ্লথ হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হয়।

কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কবির সাহিত্যকর্মকে পাঠ্যবই ও জাতীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ২০২৪ সালে মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কালজয়ী কবির স্মৃতি রক্ষার্থে মোংলায় একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবিটি এখন সময়ের দাবি। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনাকে ধারণ করে তরুণ প্রজন্ম যাতে বিপথগামী না হয়, সেজন্য তাঁর সাহিত্যকর্মের ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং নিয়মিত সাহিত্য কর্মশালার আয়োজন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নই হতে পারে কবির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ, যা আগামী দিনে তাঁর আদর্শিক উত্তরাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখবে বলে আয়োজকরা মনে করেন।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুপরবর্তী প্রভাব বাংলা সাহিত্যে এক অমোঘ বাস্তবতার নাম, যা তাঁর রচিত ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটির অমরত্বের মধ্য দিয়ে দুই বাংলায় আজও টিকে আছে। তিনি শুধু একজন কবি ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক, যিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘকাল করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করেন তাঁর অনুসারীরা। আজকের এই জন্মবার্ষিকীর আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কবির সাম্য ও মানবমুক্তির আদর্শকে নতুন করে শাণিত করার একটি পথপ্রদর্শক। যান্ত্রিকতার এই যুগে রুদ্রের কবিতার প্রতিবাদী ভাষা ও প্রেমের গভীরতা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথকে মানবিক করে তুলতে যে অনুপ্রেরণা যোগায়, তা অসামান্য এবং তা আগামী দিনে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির মূলধারায় এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে টিকে থাকবে।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator