শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বজনীন আনন্দকে সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সামাজিক সংগঠন ‘প্রয়াস’। উৎসবের মূল আমেজ যখন বিত্তবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার প্রবণতা দেখা যায়, তখন সংগঠনটি ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে। সংগঠনের সভাপতি সুভাষ সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বিতরণ কর্মসূচিটি মূলত দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকট নিরসনে একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উৎসবের প্রাক্কালে এই মানবিক উদ্যোগটি কেবল সহায়তা প্রদানই নয়, বরং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের মূলধারার উৎসবের সাথে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে কাজ করেছে।
ভুক্তভোগী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ অনেক পরিবারের পক্ষেই উৎসবের আনন্দ উদযাপন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এ সময় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব হাসান মুরাদ চৌধুরী মামুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যারা সরাসরি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে তাদের বর্তমান সংকটগুলো চিহ্নিত করেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেবল উপহার বিতরণই নয়, বরং অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাদের কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি। স্থানীয় পর্যায়ে যারা দিনমজুর বা চরম দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত, তাদের জন্য এই মানবিক উপহার সামগ্রী কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে এনেছে। সংগঠনের সহ-সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জনি ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিতরণকৃত এই সহায়তাগুলো মূলত ওইসব পরিবারের দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভাব ও বঞ্চনার কিছুটা হলেও লাঘব করার চেষ্টা করেছে, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সংগঠনটির এই উদ্যোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যদিও প্রশাসনের তরফ থেকে এ ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত নজরদারি ও সহায়তার দাবি জোরালো হচ্ছে। অর্থ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাহব উদ্দীন ও প্রচার সম্পাদক সুলতান মাহামুদ রাজীবের মতে, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিকতার চর্চা বজায় রাখতে হলে কেবল সংগঠনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অদূর ভবিষ্যতে এই ধরনের জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, উৎসবের মৌসুমে যেন কোনো পরিবারই সহায়তাহীন না থাকে, সেজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার এই বন্ধন সুদৃঢ় হলে সমাজের অস্থিরতা হ্রাস পাবে এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বৃদ্ধি পাবে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই মানবিক আয়োজন কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমাজে বিদ্যমান শ্রেণি বৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এ ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের জন্যও একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। উৎসবের আনন্দকে ভাগ করে নেওয়ার এই সংস্কৃতি যখন সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়বে, তখনই কেবল প্রকৃত সামাজিক সমতা অর্জিত হবে। পরিশেষে, ‘প্রয়াস’ সংগঠনের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পথ প্রশস্ত করেছে, যা পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।