চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে বিএনপি: দলীয় পদ ছাড়লে তবেই মিলবে প্রার্থী হওয়ার ছাড়পত্র.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে বিএনপি: দলীয় পদ ছাড়লে তবেই মিলবে প্রার্থী হওয়ার ছাড়পত্র..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে বিএনপি: দলীয় পদ ছাড়লে তবেই মিলবে প্রার্থী হওয়ার ছাড়পত্র..
চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে বিএনপি: দলীয় পদ ছাড়লে তবেই মিলবে প্রার্থী হওয়ার ছাড়পত্র..
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ছাত্রদলের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের পদত্যাগ সাপেক্ষে প্রার্থী হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরি..

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বিএনপি। গত ১৪ অক্টোবর চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডের মুনিরা ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ঘোষণা দিয়েছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী প্রার্থী হতে পারবেন না। এছাড়া বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত কোনো নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে তাকে অবশ্যই নিজ নিজ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূলে দলীয় ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষের চেয়ে দলের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্দেশনার মাধ্যমে দলটি মূলত নির্বাচনে হাইব্রিড বা সুবিধাবাদী প্রার্থীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে স্বচ্ছ নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে চাইছে, যা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় অবস্থান সুসংহত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

সভায় উপস্থিত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের উদ্দেশে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন যে, জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অতীতে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে যে লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মসজিদের ইমামের মতো আদর্শবান ও দায়িত্বশীল হতে হবে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতে অনেক ক্ষেত্রে দলীয় পদ ব্যবহার করে অনিয়ম ও সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের প্রবণতা দেখা গেছে। সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেই দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রার্থীদের সততা ও জনসেবার মানসিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে, অপরাধের মাত্রা ছোট হোক বা বড়, কোনো ধরনের বিচ্যুতি ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই নির্দেশনার ফলে অনেক ত্যাগী নেতা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও, পদ আঁকড়ে থাকা নেতাদের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একমত পোষণ করেছেন এবং সংসদ সদস্যের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী। এতে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন আর বিদ্যমান নেই এবং এটি তারেক রহমানের বাংলাদেশ, যেখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি উপস্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, তারা যেন নিজ নিজ দায়বদ্ধতা ও যোগ্যতার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করেন। সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যা সেলিমসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, যারা ব্যক্তির চেয়ে দলকে বড় করে দেখার এবং দলীয় মনোনীত প্রার্থীর জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন। এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচন কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এই কঠোর নীতিমালার প্রয়োগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় পদ ছেড়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার শর্তটি কেবল প্রার্থীদের যোগ্যতাই যাচাই করবে না, বরং নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে দলীয় ঐক্য ও তৃণমূলের জনসমর্থনকেও যাচাই করবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি যে ধরনের সাংগঠনিক কঠোরতা প্রদর্শন করছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। যদি এই নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভবিষ্যতে পরিবহন বা স্থানীয় উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অনেকাংশেই কমে আসবে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত। সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনী কৌশল সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, চাঁদপুরের রাজনীতিতে এখন থেকে মেধা ও সততার প্রাধান্যই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator