পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুল ভবন ধসে ২৮ শি' শু ও শিক্ষকের মৃ' ত্যু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুল ভবন ধসে ২৮ শি' শু ও শিক্ষকের মৃ' ত্যু..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুল ভবন ধসে ২৮ শি' শু ও শিক্ষকের  মৃ' ত্যু..
পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুল ভবন ধসে ২৮ শি' শু ও শিক্ষকের  মৃ' ত্যু..
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও তদারকির চরম ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।..

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার পেশোয়ার শহরের দির কলোনিতে অবস্থিত একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত ২৮ শিশু ও একজন নারী শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি স্থানীয় সময় সকালের দিকে ঘটে, যখন শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান গ্রহণ করছিল। লেডি রিডিং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ২৮টি শিশুর মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় স্কুল ভবনের ছাদটি হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে, যার ফলে শ্রেণিকক্ষে থাকা শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও বেশ কয়েকজন শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে, যা এই মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আহতাবস্থায় অন্তত ২০ থেকে ৪০ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্কুল ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল এবং বেশ কিছুদিন ধরেই এর অবকাঠামোগত ত্রুটিগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও স্কুল মালিকপক্ষ বারবার সতর্ক করার পরেও ভবনটির সংস্কার বা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাদের মতে, মুনাফালোভী স্কুল কর্তৃপক্ষ কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে স্কুল মালিকের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া শিশুদের উদ্ধারে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কুলের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার দায় নিরূপণে তদন্ত শুরু হয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি স্কুল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে পুরো ঘটনার বিশদ তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি পৃথক শোকবার্তায় এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কেবল শোকবার্তা বা গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই কাঠামোগত অব্যবস্থাপনার দায় মুক্তি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রতিপালন এবং নিয়মবহির্ভূত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে পাঠদান বন্ধে প্রশাসনের উদাসীনতাকেই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

পেশোয়ারের এই ঘটনা পাকিস্তানের শিক্ষা খাতের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার চিত্রটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং অভিভাবক মহলে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন ও ভবন নিরপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয়, বরং সারা দেশে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত অডিট পরিচালনা করা জরুরি। যথাযথ সংস্কার ও নজরদারির অভাব যে কত বড় মূল্য দিতে পারে, পেশোয়ারের এই ট্র্যাজেডি তার একটি রক্তাক্ত স্মারক হয়ে থাকবে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator