১৫ অক্টোবর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

১৫ অক্টোবর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
১৫ অক্টোবর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারের ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।..

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্যের অস্থিরতা এবং নিম্নমুখী প্রবণতার প্রেক্ষিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বড় ধরনের সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে পুঁজি করে স্থানীয় বাজারে যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছিল, বিশ্ববাজারের দরপতনের ফলে সেই চাপে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই মূল্য সমন্বয় মূলত বিশ্ব অর্থনীতির সাথে স্থানীয় স্বর্ণ বাজারের সরাসরি সংযোগের একটি প্রতিফলন, যা আমদানিনির্ভর স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে যে ভোগান্তি ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, এই মূল্যহ্রাস সেই সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য স্বর্ণের অলংকার এখন বিলাসিতার পর্যায়ে চলে গেছে, যেখানে ভরিতে সামান্য কয়েক হাজার টাকা কমলেও তা ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী ক্রেতারা মনে করছেন, বাজুসের এই সমন্বয় কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে যদি আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে করা হতো, তবে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকত। এছাড়া গহনা তৈরির মজুরি এবং ভ্যাটের জটিল হিসাব নিয়ে অধিকাংশ ক্রেতাই বিভ্রান্তির শিকার হন। গহনা কেনার সময় ঘোষিত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত ভ্যাট ও মজুরি যোগ হওয়ার ফলে প্রকৃত ব্যয় অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতার ধারণার বাইরে চলে যায়, যা জুয়েলারি খাতের অস্বচ্ছতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নির্ধারিত মূল্য অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে এবং পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই দামই কার্যকর থাকবে। বিশেষ করে অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। বাজুস কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে, গহনা বিক্রির সময় ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় না করে ঘোষিত মূল্যের সাথে সমন্বয় করতে হবে, যাতে ক্রেতারা হয়রানির শিকার না হন। তবে মাঠপর্যায়ে এই নিয়ম কতটুকু মানা হচ্ছে, তা নিয়ে জুয়েলারি মালিকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অভাব থাকায় অনেক সময় ছোট দোকানগুলোতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, যা ভোক্তা অধিকারের পরিপন্থী।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামের এই সমন্বয় দেশের মূল্যবান ধাতু বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে এনেছে, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বর্তমানে ৪ হাজার ১৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে স্বর্ণের দামের এই ওঠানামা সাধারণ মানুষের সঞ্চয় প্রবণতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতারা এখন বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছেন, কারণ স্বর্ণের বাজার স্থিতিশীল না হলে দেশের অলংকার শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী মন্দার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের মতো স্বর্ণের খুচরা বাজারেও যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়, তবে ক্রেতাদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে। সামগ্রিকভাবে, বাজুসের এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, বাজারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিই কেবল সাধারণ ক্রেতাদের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator