দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় এক মাস মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।..

দীর্ঘ প্রায় এক মাস মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে ফলোআপ চিকিৎসা সম্পন্ন করে গত বুধবার দিবাগত রাত ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস। তার ব্যক্তিগত সহকারী মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন, যা ছিল তার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ার একটি ধারাবাহিক অংশ। এর আগে গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারানোর পর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের বিষয়টি ধরা পড়ে। দ্রুত অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে অধিকতর ফলোআপের জন্য তাকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি একবার দেশে ফিরলেও স্বাস্থ্যের পূর্ণ সুরক্ষার প্রয়োজনে আবারও তাকে মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছিল। মির্জা আব্বাসের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং বারবার বিদেশ ভ্রমণ তার শারীরিক জটিলতার গভীরতাকেই নির্দেশ করে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বর্তমান সুস্থতা এবং দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক সক্রিয়তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মির্জা আব্বাসের এই দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা এবং বিদেশে বারবার যাতায়াত মূলত তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতার কারণেই ঘটেছে, যা গত মার্চ মাসে ইফতারের সময় আকস্মিকভাবে প্রকট আকার ধারণ করেছিল। ভুক্তভোগী ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি অনুযায়ী, নিয়মিত ফলোআপ এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার কোনো বিকল্প ছিল না বলেই তাকে মাসের পর মাস বিদেশে অবস্থান করতে হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার ফলে তিনি এখন বিপদমুক্ত বলে জানা গেছে। তবে তার মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিকের বারবার অসুস্থ হওয়া এবং দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যস্ততা এবং মানসিক চাপের মধ্যে শারীরিক এই অবনতি কতটা নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব, তা নিয়ে এখন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা চিন্তিত। তার সহকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে এখন দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্রামে থাকতে হবে এবং শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত রাখতে হতে পারে। তার এই অসুস্থতার সময়কালে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার অনুপস্থিতি অনুভূত হয়েছে এবং বর্তমানে তার দেশে ফেরা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মির্জা আব্বাসের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া এবং বিদেশে যাতায়াতের বিষয়টিকে তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে তার পরিবার এবং দলীয় সহকর্মীরা। সরকারি পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তার অসুস্থতা এবং বিদেশে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করার বিষয়টি প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হলো, একজন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, কারণ তার কর্মদক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দেশের রাজনীতির জন্য অপরিহার্য। যদিও তার চিকিৎসা ব্যয়ের উৎস বা সরকারি কোনো সহায়তা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার শারীরিক উন্নতির বিষয়ে ইতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করায় তিনি দেশে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন। এখন তার সুস্থতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত চেকআপের বিষয়টি স্থানীয় চিকিৎসকদের নিবিড় তদারকিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অবহেলা যেন তার স্বাস্থ্যের পুনরায় অবনতি না ঘটায়, সেদিকে পরিবার ও দলীয় নেতৃবৃন্দ বিশেষ নজর রাখছেন বলে জানা গেছে।

সামগ্রিকভাবে মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ হলেও, তার শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসায় তার রাজনৈতিক সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এটি স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতে তার কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রবীণ রাজনীতিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে বিতর্ক ও আলোচনা রয়েছে, মির্জা আব্বাসের এই ঘটনাটি তার একটি বড় দৃষ্টান্ত। তার এই সুস্থতা বজায় থাকলে তিনি পুনরায় জনস্রোতে সক্রিয় হতে পারবেন, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে তার শারীরিক অবস্থার পূর্ণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ কতটা সক্রিয় হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। সব মিলিয়ে তার এই ফেরা কেবল একটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য জয়ের গল্প নয়, বরং এটি তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি নতুন ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Geen reacties gevonden


News Card Generator