একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন..
একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন..
ছবি: সংগৃহীত
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।..

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারো ব্যক্তিগত ছবি কিংবা ভিডিও বিকৃত করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে এই অশুভ প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, কাউকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এআই-এর অপব্যবহার কোনোভাবেই বিনোদনের পর্যায়ে পড়ে না, বরং এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় একটি গুরুতর অপরাধ। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার না করে যখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং চরিত্র হননের কাজে ব্যবহার করা হয়, তখন তা পুরো সমাজের নৈতিক কাঠামোকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। এই ডিজিটাল অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা যে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যান, তা জনসচেতনতার অভাবে বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভিউ এবং এনগেজমেন্টের নেশায় এক শ্রেণির কনটেন্ট ক্রিয়েটর নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দিচ্ছেন। মেহজাবীন চৌধুরী তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই কনটেন্ট শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ পরোক্ষভাবে অপরাধের অংশীদার হচ্ছেন। একজন মানুষের সম্মান হানি করে অর্জিত অর্থ বা ট্রেন্ডিংয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষা যে কতটা বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ভিউ পাওয়ার লোভে অন্যকে অপমান করাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা সমাজের সুস্থ রুচিবোধকে ধ্বংস করছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসম্মানজনক কন্টেন্ট তৈরি করা এখন আর কেবল লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি সর্বজনীন সাইবার বুলিংয়ের রূপ নিয়েছে, যা যে কাউকে যেকোনো সময় লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

এই সাইবার অপরাধের প্রসারে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর কনটেন্টকে প্রমোট করছে, তথাপি সাধারণ ব্যবহারকারীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শেয়ারিং প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মেহজাবীন চৌধুরীর মতে, কাউকে সম্মান করার জন্য তাকে পরিবারের সদস্য হতে হয় না, বরং মানুষ হিসেবেই প্রত্যেকের ন্যূনতম মর্যাদা প্রাপ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরনের এআই জেনারেটেড ভুয়া কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সাইবার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা। কেবল প্রশাসনিক নজরদারি নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব বিবেকবোধ এবং ডিজিটাল লিটারেসি বা সচেতনতাই পারে এই অপসংস্কৃতি রুখে দিতে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তি যখন মানুষের সৃজনশীলতার পরিবর্তে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়, তখন তা পুরো রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়ায়। মেহজাবীন চৌধুরীর এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কেবল একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, বরং এটি বর্তমান ডিজিটাল যুগের এক অনিবার্য দাবি। অপরাধীর অপরাধে অংশীদার না হয়ে বিবেকবান মানুষ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো ভুয়া কনটেন্ট বর্জন করা এবং এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা, যাতে সাইবার জগত সবার জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক হয়ে ওঠে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator