বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন—বেসরকারি টিভি চ্যানেল স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম এবং মোহনা টিভির ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম।
ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে গাড়িতে ওঠার সময় ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে মারামারি ও হাতাহাতি শুরু হয়। জহুরুল ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করতে গেলে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের কর্মী মুন্না তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন।
ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম বলেন, “জহুরুল ভাইকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি ক্যামেরা ঘুরিয়ে ভিডিও করতে গেলে আমার ওপরও হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়।”
পরে পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করলে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন রাব্বি ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ থামান এবং কেড়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দেন।
ঘটনাক্রম ও ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
বুধবার দুপুরে গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। তার আগে তিনি রায়ডাঙ্গায় আবরার ফাহাদের কবর জিয়াত করেন। জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রীর ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কুষ্টিয়া জেলা ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ প্রকাশ পায় এবং হাতাহাতি শুরু হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন রাব্বি জানান, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধান করা হয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, “ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”