চাঁদপুরের মোহনপুর ঘাটে লঞ্চ ও বাল্কহেডের সংঘর্ষ: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কর্তৃপক্ষের দায়সারা ভূমিকা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরের মোহনপুর ঘাটে লঞ্চ ও বাল্কহেডের সংঘর্ষ: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কর্তৃপক্ষের দায়সারা ভূমিকা..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরের মোহনপুর ঘাটে লঞ্চ ও বাল্কহেডের সংঘর্ষ: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কর্তৃপক্ষের দায়সারা ভূমিকা..
চাঁদপুরের মোহনপুর ঘাটে লঞ্চ ও বাল্কহেডের সংঘর্ষ: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কর্তৃপক্ষের দায়সারা ভূমিকা..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের মোহনপুর লঞ্চ টার্মিনালে এমভি নড়িয়া-২ লঞ্চের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের সংঘর্ষে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।..

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর লঞ্চ টার্মিনালে নোঙর করার পূর্ব মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জগামী এমভি নড়িয়া-২ লঞ্চের সঙ্গে একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সজোরে ধাক্কা লাগে। ঘটনার সময় লঞ্চটিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন, যারা আকস্মিক এই সংঘর্ষে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, লঞ্চটি যখন ঘাটে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে, ঠিক তখনই নিয়ন্ত্রণহীন বাল্কহেডটি লঞ্চের গায়ে আঘাত করে, যার ফলে বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়। যদিও ভাগ্যক্রমে যাত্রীরা বড় ধরনের শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন এবং লঞ্চটিরও বড় কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি, তথাপি জনবহুল নৌপথে এ ধরনের দুর্ঘটনা নৌ-নিরাপত্তার চরম ঝুঁকিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নিয়মিত যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে লঞ্চের নিরাপত্তা প্রোটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, নদীপথে বাল্কহেডের বেপরোয়া চলাচল এবং লঞ্চঘাটের অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ঘটনার সময় লঞ্চের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও আর্তচিৎকার শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘাটে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে। প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাজিব সৈয়াল জানান, সংঘর্ষের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে যাত্রীরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। মাঝনদীতে বা ঘাটের সন্নিকটে বাল্কহেডের মতো বিপজ্জনক নৌযানের অবাধ বিচরণ এবং লঞ্চের সাথে এ ধরনের সংঘর্ষ প্রমাণ করে যে, নৌ-চলাচল আইনের প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চালকদের অসতর্কতা এবং ট্রাফিক নির্দেশনার অভাবের কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে অনিরাপদ করে তুলছে।

ঘটনার পরপরই লঞ্চের মাস্টার ফয়েজ পাটোয়ারী দাবি করেছেন যে, সংঘর্ষটি বড় ধরনের কোনো ক্ষতির কারণ হয়নি এবং লঞ্চটি পরবর্তীতে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই দায়সারা মন্তব্যের বিপরীতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের ভাষ্য চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। মোহনপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন এবং চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ-এর উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্য উভয়েই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার মতে, এমভি নড়িয়া-২ লঞ্চের রুট পারমিট নারায়ণগঞ্জ–নড়িয়া রুটে থাকলেও এটি কেন মোহনপুর ঘাটে ভিড়ছিল, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের এই অজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, নৌপথে নজরদারির অভাব কতটা প্রকট এবং দায়বদ্ধতার জায়গাটি কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নদীপথে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বড় কোনো ট্র্যাজেডির কারণ হতে পারে। মোহনপুর ঘাটের এই দুর্ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের অগোছালো নৌ-ব্যবস্থাপনার একটি সতর্কবার্তা। যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত রুট পারমিট যাচাই, বাল্কহেডের অবৈধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ঘাটে নৌযান নোঙর করার ক্ষেত্রে কঠোর ট্রাফিক নিয়ম কার্যকর করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এখনই এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে নৌপথের যাত্রীদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি থেকেই যাবে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Walang nakitang komento


News Card Generator