সিজেপির দুই নেতা ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সিজেপির দুই নেতা ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সিজেপির দুই নেতা ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে
সিজেপির দুই নেতা ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভ করায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।..

ভারতের রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে গত মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে ওই স্থানে অনুপ্রবেশ এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। বুধবার মন্দির মার্গ এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ প্রদান করেন। একই ঘটনায় আটক দলের অপর নেতা অজিঙ্কা শিন্ডেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা অনুযায়ী, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপসহ অন্যান্য সমর্থকরা।

ভুক্তভোগী সিজেপি নেতাদের পক্ষের আইনি দল জানিয়েছে, আটকের পর থেকে তাদের ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিংয়ের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার আটকের পর গভীর রাত পর্যন্ত তাদের আইনজীবীদের সাথে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা আইনি অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এমনকি রাত তিনটার দিকে অমানবিক পরিস্থিতিতে তাদের একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়। নেতাদের দাবি, তারা কেবল গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন, কিন্তু পুলিশ প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কণ্ঠরোধ করতে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। অজিঙ্কা শিন্ডে মুক্তি পেলেও সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার আটকের বিষয়টি দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, যারা মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই তাদের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের ভাষ্যমতে, এই দুই নেতা আইনগতভাবে পূর্ব থেকেই নজরদারিতে ছিলেন। গত শনিবার আরেকটি বিক্ষোভের ঘটনায় তাদের আটক করা হয়েছিল এবং সে সময় ৫০ হাজার রুপির মুচলেকায় মুক্তি পাওয়ার সময় তারা অঙ্গীকার করেছিলেন যে, আগামী এক বছর তারা শান্তিভঙ্গের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তারা সেই অঙ্গীকার সরাসরি ভঙ্গ করেছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধা দেওয়া এবং অনধিকার প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, জননিরাপত্তা এবং আইনি মুচলেখার শর্ত ভঙ্গ করলে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এই ঘটনার ফলে দিল্লির রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলোতে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে সিজেপির এই আন্দোলন একদিকে যেমন ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে পুলিশের কঠোর অবস্থান নাগরিক অধিকার ও প্রতিবাদের অধিকারের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। আদালত ও প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক নেতাদের বারবার হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে, তা ভারতীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কাঠামোর জন্য এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

没有找到评论


News Card Generator