চুয়েট ভিসিকে সুস্থ হয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসে ফেরার পরামর্শ সরকারের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চুয়েট ভিসিকে সুস্থ হয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসে ফেরার পরামর্শ সরকারের..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
চুয়েট ভিসিকে সুস্থ হয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসে ফেরার পরামর্শ সরকারের..
চুয়েট ভিসিকে সুস্থ হয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসে ফেরার পরামর্শ সরকারের..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; সরকার তাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার ..

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার সকাল পৌনে ৯টায় বহিরাগতদের সাথে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। দুপুর ১২টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার আল্টিমেটাম উপেক্ষা করায় শিক্ষার্থীরা ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়, যার ফলে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা তিনি ও তার সফরসঙ্গীসহ মোট ১১ জন অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ও অমানবিক পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে, যার প্রেক্ষিতে সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেট আজ বুধবার জানানো হবে।

অবরুদ্ধ থাকাকালীন পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত পরিবেশে ১১ জনের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। শিক্ষার্থীদের একাংশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উপাচার্যের দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল, যা তাদের জন্য চরম অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করে। এছাড়া, তার পদত্যাগ ও ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে যে গুঞ্জন বা সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, উদ্ধার হওয়ার সময় তার শারীরিক অবস্থা এমন ছিল না যে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারেন, ফলে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। উপাচার্য জানিয়েছেন, সরকারের উচ্চমহল থেকে তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, তারা কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় পড়ে নিজেদের শিক্ষাজীবন যেন ঝুঁকির মুখে না ফেলে। তিনি নিজেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে উল্লেখ করে ব্যক্তিগত বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হলেও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও অচলাবস্থা নিরসনে এখনো কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দৃশ্যমান হয়নি, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

চুয়েটের এই ঘটনা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের অবনতি এবং প্রশাসনিক সংকট নিরসনে সংলাপের অভাবকে আবারো সামনে নিয়ে এসেছে। ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার ঘটনাটি কেবল উপাচার্যের নিরাপত্তা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার মানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা ক্ষোভ এবং প্রশাসনের সাথে তাদের আস্থার সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী উপাচার্য দ্রুত কাজে ফিরলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator