হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের, উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের, উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের, উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর..
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের, উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর..
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে; আইআরজিসি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের হুমকি দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে পেন্টাগন।..

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও জলসীমায় মার্কিন উপস্থিতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি আজমায়ি এক টেলিভিশন ভাষণে সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এই স্পর্শকাতর জলসীমায় কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তার দাবি অনুযায়ী, মার্কিন রণতরীগুলো নিজেদের দুর্বলতা ও নিরাপত্তার ভয়ে বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এই হুমকি মূলত পারস্য উপসাগরে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে ইরান নিজেকে এই সমুদ্রপথের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক হিসেবে দাবি করছে।

এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজে অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা অস্ত্রের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও এই তথ্য নিশ্চিত করলেও হামলার উৎস বা ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এই ঘটনার ফলে ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইরান একদিকে মার্কিন বাহিনীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে রণকৌশলগতভাবে তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে আঞ্চলিক মিত্রদের বার্তা দিচ্ছে। ভুক্তভোগী সাধারণ ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর মতে, দুই পরাশক্তির এই রেষারেষি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইরানের এই চরম হুঁশিয়ারির বিপরীতে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম ইরানি কমান্ডারের দাবিকে ভিত্তিহীন ও দম্ভোক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের হাতেই রয়েছে এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর কোনো সক্ষমতা নেই যে তারা মার্কিন নৌবহরকে বাধা প্রদান করবে। সেন্টকম আরও জানায় যে, গত সোমবারও তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সহায়তায় প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে পরিবহণ নিশ্চিত করেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থানের ফলে ভূ-রাজনীতিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে।

এই সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাব কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতার ওপরও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের সামরিক সংঘর্ষ বা ছোটখাটো হামলাও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই স্নায়ুযুদ্ধ যদি প্রকৃত সামরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই বাকযুদ্ধ এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জলপথগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে, যার সমাধান না হলে অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

Walang nakitang komento


News Card Generator