সালমান খান এখনও ‘ভার্জিন’ কিনা প্রশ্ন করে ধমক খেলেন করণ জহর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সালমান খান এখনও ‘ভার্জিন’ কিনা প্রশ্ন করে ধমক খেলেন করণ জহর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সালমান খান এখনও ‘ভার্জিন’ কিনা প্রশ্ন করে ধমক খেলেন করণ জহর..
সালমান খান এখনও ‘ভার্জিন’ কিনা প্রশ্ন করে ধমক খেলেন করণ জহর..
ছবি: সংগৃহীত
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে নিয়ে জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনের প্রথম পর্বের প্রোমো প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সঞ্চালক করণ জোহরের অশালীন প্রশ্ন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জা..

ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন টকশো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনের প্রথম পর্বের প্রচারঝলক বা প্রোমো প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিতর্কিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা এই অনুষ্ঠানের নতুন সিজনের প্রথম অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রোমোতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক করণ জোহর অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে সালমান খানকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, যা মুহূর্তেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। করণ জোহর সরাসরি সালমান খানকে জিজ্ঞেস করেন তিনি এখনও ভার্জিন বা চিরকুমার কি না, যা শোয়ের প্রচারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও দর্শক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর মুক্তিপ্রাপ্ত এই টিজারটির মাধ্যমে মূলত শোয়ের নতুন সিজনের উত্তাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তবে সালমানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এই বিতর্ককে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের দর্শকদের মতে, তারকাদের ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘন করা করণ জোহরের পেশাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যার শিকার হয়েছেন সালমান খান। অতীতেও একই ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া সালমান খান এবার আর বিষয়টি হালকাভাবে নেননি। বরং তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে করণ জোহরকে তার আচরণের লাগাম টানার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নিজেকে একটু নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা উচিত। এই মন্তব্যটি প্রমাণ করে যে, বিনোদনের নামে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অহেতুক কৌতূহল এবং অশালীন প্রশ্ন করার প্রবণতা এখন অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। ভুক্তভোগী তারকাদের পক্ষ থেকে সরাসরি এমন পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘটনাটি বিনোদন সাংবাদিকতায় নৈতিকতার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। সালমান খানের এই কঠোর অবস্থান সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভক্তদের অকুণ্ঠ সমর্থন লাভ করেছে, যারা মনে করছেন যে তারকাদের প্রতি সঞ্চালকের ন্যূনতম শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা প্রয়োজন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে একদিকে যেমন শোয়ের বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য এই ধরনের গসিপকে স্বাভাবিক বলে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সচেতন দর্শক সমাজ প্রশাসনের নজরদারির দাবি তুলেছেন। সালমান খানের মতো একজন প্রভাবশালী অভিনেতার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করে করণ জোহর কি কেবল টিআরপি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, নাকি এটি বিনোদন জগতের এক অসুস্থ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ— তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সমালোচকরা বলছেন, অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট বা আলোচনার বিষয়বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন, যাতে কোনো শিল্পী বা ব্যক্তির সম্মানহানি না ঘটে। এই ধরণের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে টকশো বা মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পরিশেষে, জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ’-এর এই ঘটনাটি বিনোদন জগতের দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। বিনোদনের নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অশালীন প্রশ্ন করার এই সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে বলিউড তারকাদের ভাবমূর্তিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তেমনি দর্শকদের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সালমান খানের মতো একজন সুপারস্টার যখন সরাসরি সঞ্চালককে শিষ্টাচারের পাঠ দেন, তখন তা স্পষ্ট করে যে বলিউডের অন্দরেও এখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার দাবি জোরালো হচ্ছে। আগামী দিনে এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলোতে আলোচনার মান বজায় রাখা এবং তারকাদের ব্যক্তিগত সীমানা সম্মান করার প্রবণতা গড়ে না উঠলে তা মূলধারার গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্পের জন্য বড় ধরনের সংকট ডেকে আনতে পারে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator