‘মানুষ আপনাকে দুই টাকারও দাম দেয় না’ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

‘মানুষ আপনাকে দুই টাকারও দাম দেয় না’

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
‘মানুষ আপনাকে দুই টাকারও দাম দেয় না’
‘মানুষ আপনাকে দুই টাকারও দাম দেয় না’
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সংগঠক সারজিস আলমের মধ্যকার ফেসবুকীয় কাদা ছোড়াছুড়ি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে একে অপরের অতীত ও আদর্শিক অবস্থান নিয়..

গত ১৩ অক্টোবর রাতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে উদ্দেশ্য করে একটি কঠোর সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাশেদ খান তার পোস্টে সারজিস আলমের বিগত দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ছাত্রজীবনের বিভিন্ন অধ্যায় নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সারজিসের বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার জন্য তৎকালীন নেতাদের তোষামোদ করার অভিযোগ এনেছেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। রাশেদ খানের এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সারজিস আলমের বর্তমান অবস্থানের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা, যেখানে তিনি দাবি করেন যে আন্দোলনের সময় সারজিসের নিরাপত্তা ও চলাচলের ধরণ ছিল রহস্যজনক। রাশেদ খানের এই পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যা রাজনৈতিক মতাদর্শের বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

রাশেদ খানের এই তীব্র আক্রমণের জবাবে সারজিস আলম তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য ঘরে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি রাশেদ খানের বক্তব্যকে গুরুত্বহীন বলে আখ্যা দিয়ে লিখেছেন যে, যতই ফুটেজ খাওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, সাধারণ মানুষ রাশেদ খানকে দুই টাকারও দাম দেয় না। সারজিস আলমের এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত রাশেদ খানের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও তার উদ্দেশ্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। রাশেদ খানের পোস্টের প্রতিটি লাইনে যেখানে সারজিসের অতীতের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা ও ডিবি হেফাজতে থাকাকালীন আচরণের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে, সেখানে সারজিসের পাল্টা জবাব ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু আক্রমণাত্মক। এই বাদানুবাদ কেবল দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়, বরং এটি সমসাময়িক রাজনীতির অস্থিরতা এবং জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক বলয়ে নেতৃত্ব নিয়ে যে দ্বন্দ্ব ও অবিশ্বাস কাজ করছে, তারই একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উভয় পক্ষের এই বাগযুদ্ধ মূলত রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অতীত কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। রাশেদ খান যেখানে সারজিসের বিরুদ্ধে আপসকামিতার অভিযোগ এনেছেন এবং ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তার ভূমিকার অসংগতি তুলে ধরেছেন, সেখানে সারজিস আলম রাশেদ খানের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এই ধরনের প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ প্রশাসনের ভেতরে বা নতুন রাজনৈতিক ধারার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতিকে নির্দেশ করে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তাদের এই অভিযোগগুলোর সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেনি, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরকে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে।

এই ধরণের ভার্চুয়াল দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। বরং এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতাদের ভাবমূর্তিকে সংকটের মুখে ফেলছে। যখন দেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দাবি উঠছে, তখন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু বাদ দিয়ে এ ধরণের ব্যক্তিগত ও অগঠনমূলক বিরোধ সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি অদূর ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

没有找到评论


News Card Generator