সৌদি যুবরাজ সালমানকে ফোন করলেন এরদোগান | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সৌদি যুবরাজ সালমানকে ফোন করলেন এরদোগান

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সৌদি যুবরাজ সালমানকে ফোন করলেন এরদোগান
সৌদি যুবরাজ সালমানকে ফোন করলেন এরদোগান
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের রিয়াদে হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।..

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অস্থিরতা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। গত মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরাসরি টেলিফোন করে তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঙ্কারার অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। মূলত গত শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পন্ন হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি-তুরস্ক সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এরদোগানের এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা সরাসরি সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বিদ্রোহীদের নগ্ন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হুথি বিদ্রোহীদের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে এবং গত কয়েকদিনের হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রিয়াদের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হুথিদের এই বিচারহীন আক্রমণ কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং বেসামরিক জনপদকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সৌদি আরবের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করার জন্য দেশটির নেওয়া যেকোনো যৌক্তিক ও কঠোর পদক্ষেপের সঙ্গে তুরস্কের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, যা মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের প্রতিফলন।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্যমতে, এই ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং তুরস্কের এই সংহতিকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন। এদিকে, হুথিদের ক্রমাগত হামলা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সক্ষমতা ও কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও, তুরস্কের এই সমর্থন রিয়াদের কূটনৈতিক মনোবল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। আঙ্কারার পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানানো হচ্ছে যে, ইয়েমেন সংকট সমাধানে আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি হলেও, সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসলে কঠোর জবাব দেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের রয়েছে। তবে কেবল কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় রয়েই গেছে, কারণ হুথিদের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা সৌদি আরবের আকাশসীমার নিরাপত্তাকে নিয়মিত হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এই হামলাগুলো কেবল সৌদি আরবের জন্যই নয়, বরং পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্কের মতো প্রভাবশালী শক্তির সরাসরি সমর্থন সৌদি আরবকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, যা দীর্ঘমেয়াদে হুথি বিদ্রোহীদের ওপর চাপ প্রয়োগে সহায়ক হতে পারে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত ইয়েমেন সংকটের কোনো টেকসই রাজনৈতিক সমাধান আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় বন্ধ হওয়া কঠিন। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রিয়াদকে এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ফ্রন্টে ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে হবে, অন্যথায় আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator