পতিত জমিতে পানিফলের আবাদ, সাতক্ষীরায় এক বছরে বেড়েছে ২৫০ হেক্টর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পতিত জমিতে পানিফলের আবাদ, সাতক্ষীরায় এক বছরে বেড়েছে ২৫০ হেক্টর..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
পতিত জমিতে পানিফলের আবাদ, সাতক্ষীরায় এক বছরে বেড়েছে ২৫০ হেক্টর..
পতিত জমিতে পানিফলের আবাদ, সাতক্ষীরায় এক বছরে বেড়েছে ২৫০ হেক্টর..
ছবি: সংগৃহীত
জলাবদ্ধতা যেখানে কৃষির প্রতিবন্ধকতা, সেখানেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে পানিফল চাষ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

জলাবদ্ধতা যেখানে কৃষির প্রতিবন্ধকতা, সেখানেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে পানিফল চাষ। বছরের দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা ও প্রচলিত ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী জমিতে পানিফল আবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন সাতক্ষীরার অনেক কৃষক। কম খরচে তুলনামূলক ভালো আয় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় জেলাজুড়ে বাড়ছে এ ফলের চাষ। উৎপাদিত পানিফল স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় ৬৫৫ হেক্টর জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৪০৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পানিফলের আবাদ বেড়েছে ২৫০ হেক্টর। শতকরা হিসাবে এ বৃদ্ধির হার প্রায় ৬২ শতাংশ। জলাবদ্ধ ও অনাবাদি জমিকে উৎপাদনমুখী কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে পানিফল চাষ কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকা জমিতে প্রচলিত ফসল উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসব জমির বড় একটি অংশ বছরের দীর্ঘ সময় অনাবাদি থাকে। পানিফল চাষের মাধ্যমে সেই জমিকে কাজে লাগিয়ে আয় করছেন কৃষকরা। চাষিদের মতে, বাজারে চাহিদা থাকায় উৎপাদিত ফল বিক্রি নিয়ে তুলনামূলক ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পানিফল চাষি শাহবুদ্দিন ও ইয়াকুব্বর আলী জানান, পানিফলের বাজারে চাহিদা থাকায় তাঁরা লাভবান হচ্ছেন। উৎপাদিত ফলের একটি অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। বাকি ফল ট্রাকে করে ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দূরবর্তী বাজারে বিক্রির সুযোগ থাকায় পানিফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌসুম ও বাজারভেদে পানিফলের দাম ওঠানামা করে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পানিফল ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ভরা মৌসুমে কোনো কোনো এলাকায় দাম কমে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় নেমে আসে। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পানিফলের দাম থাকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা।

দামের এই তারতম্যের কারণে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের লাভের হিসাব করতে হয়। তাই শুধু আবাদ বাড়ানো নয়, উৎপাদিত ফলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তামান্না তাছনীম জানান, জমির উপযোগিতা যাচাই, উন্নত মানের বীজ ও চারা সরবরাহ, কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরায় পানিফল চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে কৃষকরা উৎপাদিত ফল থেকে আরও ভালো আয় করতে পারবেন। এতে জলাবদ্ধ ও পতিত জমির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার বলেন, অনাবাদি ও জলাবদ্ধ জমি কাজে লাগিয়ে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপযোগী জমিতে পানিফল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ জানান, জলাবদ্ধতার কারণে পতিত থাকা জমি, জলাশয়, বিল ও পরিত্যক্ত পুকুরে মূলত পানিফল চাষ করা হয়। এ উদ্ভিদের কান্ড পানিতে ডুবে থাকলেও পাতা, ফুল ও ফল পানির ওপর ভাসে। বীজের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। পানিফলের বীজ দীর্ঘদিন অঙ্কুরোদ্গমের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধ জমিতে উপযোগী ফসল নির্বাচন করে পরিকল্পিত চাষাবাদ করা গেলে কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ খাতকে লাভজনক করতে উন্নত চাষপদ্ধতি, মানসম্মত বীজ, বাজারব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সুবিধা ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

সাতক্ষীরায় এক বছরে পানিফলের আবাদ ২৫০ হেক্টর বেড়ে যাওয়ার তথ্য এ ফসলের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যথাযথ কৃষি সহায়তা ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধ ও পতিত জমি আর কৃষকের কাছে শুধু দুর্ভোগের কারণ হয়ে থাকবে না; বরং তা হয়ে উঠতে পারে বাড়তি আয় ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশের একটি কার্যকর মাধ্যম।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator