কিশোর অপরাধ ও মাদক রুখতে অভিভাবক সম্মেলনের উদ্যোগ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কিশোর অপরাধ ও মাদক রুখতে অভিভাবক সম্মেলনের উদ্যোগ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
কিশোর অপরাধ ও মাদক রুখতে অভিভাবক সম্মেলনের উদ্যোগ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..
কিশোর অপরাধ ও মাদক রুখতে অভিভাবক সম্মেলনের উদ্যোগ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি ও কিশোর অপরাধ রোধে চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ অভিভাবক সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।..

চট্টগ্রামের বর্তমান শিক্ষাঙ্গনে ক্রমবর্ধমান কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা রোধকল্পে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন একটি বিশেষ অভিভাবক সম্মেলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মূলত শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে এই সম্মেলন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধের অভাব এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার যে প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা নিরসনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে মূলত পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনার কৌশলগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ভুক্তভোগী অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল আসক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীরা যেভাবে বিপথগামী হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করা অসম্ভব। অভিভাবকরা প্রায়শই অভিযোগ করেন যে, সন্তানদের দৈনন্দিন আচরণগত পরিবর্তন এবং তাদের বন্ধু মহলের ওপর নজরদারি রাখা অনেক ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আবছার উদ্দিন অলি বলেন, সন্তানদের কেবল পড়াশোনার টেবিলে বসিয়ে রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রতিটি অভিভাবকের জন্য অপরিহার্য। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো অভিভাবকদের এই দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝানো, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি জাফর ইকবালের নেতৃত্বে সংগঠনের প্রতিনিধিরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে ধারাবাহিক মতবিনিময় শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে অপর্ণাচরণ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলালের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আয়োজক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসাইন জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার মাধ্যমেই কেবল শিক্ষার্থীদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা সম্ভব। যদিও সম্মেলনের নির্দিষ্ট তারিখ বা স্থান এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে আয়োজকরা আশা করছেন যে, এই ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবক প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা করবে।

পরিশেষে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ কেবল অপরাধ দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী নৈতিক শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের সচেতন মহলের সমন্বিত অংশগ্রহণ যদি নিশ্চিত করা যায়, তবেই কেবল শিক্ষার্থীদের মাদক ও কিশোর অপরাধের অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই ধরণের সম্মেলন যদি নিয়মিত বিরতিতে আয়োজিত হয়, তবে তা চট্টগ্রামসহ সারাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন গতির সঞ্চার করবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও সামাজিক নিরাপত্তায়ও একপ্রকার স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator