হঠাৎ বুক ধড়ফড় ও তীব্র ভয়? জেনে নিন প্যানিক অ্যাটাক কী এবং তাৎক্ষণিক করণীয়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

হঠাৎ বুক ধড়ফড় ও তীব্র ভয়? জেনে নিন প্যানিক অ্যাটাক কী এবং তাৎক্ষণিক করণীয়..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
হঠাৎ বুক ধড়ফড় ও তীব্র ভয়? জেনে নিন প্যানিক অ্যাটাক কী এবং তাৎক্ষণিক করণীয়..
হঠাৎ বুক ধড়ফড় ও তীব্র ভয়? জেনে নিন প্যানিক অ্যাটাক কী এবং তাৎক্ষণিক করণীয়..
ছবি: সংগৃহীত
কোনো স্পষ্ট বিপদ বা কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র ভয়, বুক ধড়ফড় করা এবং মনে হওয়া যে এখনই হয়তো মৃত্যুর মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন—এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন কখনো? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘প্যানিক..

প্যানিক অ্যাটাক কী এবং কেন হয়?

প্যানিক অ্যাটাক হলো মূলত শরীরের স্বাভাবিক 'ফাইট অর ফ্লাইট' (Fight or Flight) বা বিপদের মুখোমুখি হওয়ার মেকানিজমের একটি ভুল সংকেত। যখন মস্তিষ্ক কোনো বাস্তব বিপদ ছাড়াও কাল্পনিক বিপদ বা অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভয় পেয়ে যায়, তখনই এই প্রতিক্রিয়া ঘটে।

এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ না থাকলেও প্রধান কিছু অনুঘটক হলো:

  • দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ (Anxiety)

  • পরিবারের কারো প্যানিক ব্যাধি থাকার ইতিহাস (জেনেটিক)

  • জীবনের বড় কোনো পরিবর্তন বা মানসিক আঘাত (Trauma)

  • অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা/কফি), অ্যালকোহল সেবন বা ঘুমের অভাব

লক্ষণ ও উপসর্গ

প্যানিক অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণগুলো সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়: ১. তীব্র বুক ধড়ফড় করা বা হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যাওয়া ২. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা দম আটকে আসার অনুভূতি ৩. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং শরীর থরথর করে কাঁপা ৪. মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লাগা বা বমি বমি ভাব ৫. বুক চেপে আসা বা বুকে ব্যথা (যা প্রায়ই হার্ট অ্যাটাক মনে হয়) ৬. নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় কিংবা ‘আমি হয়তো মারা যাচ্ছি’ এমন তীব্র অনুভূতি

প্যানিক অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়

প্যানিক অ্যাটাক হলে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা স্বাভাবিক। তবে কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে দ্রুত স্বস্তি পাওয়া সম্ভব:

  • ধীরগতির শ্বাসপ্রশ্বাস (Deep Breathing): নাক দিয়ে আস্তে ৪ সেকেন্ড শ্বাস নিন, ২ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং মুখ দিয়ে ৬ সেকেন্ড ধরে আস্তে ছাড়ুন। এটি আপনার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠাবে যে আপনি নিরাপদ আছেন।

  • মনে মনে স্পষ্ট করা: নিজেকে বারবার বলুন—“এটি একটি প্যানিক অ্যাটাক মাত্র, এটি ক্ষণস্থায়ী এবং আমি মারা যাচ্ছি না। কিছুক্ষণ পরেই এটি ঠিক হয়ে যাবে।”

  • ৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক: আতঙ্কের মনোযোগ সরাতে আপনার চারপাশের ৫টি বস্তু দেখুন, ৪টি জিনিস স্পর্শ করুন, ৩টি শব্দ শুনুন, ২টির গন্ধ নিন এবং ১টি স্বাদের অনুভূতি মনে করুন।

  • চোখ বন্ধ করা: চারপাশের কোলাহল বা আলো যদি ভয় বাড়িয়ে দেয়, তবে চোখ বন্ধ করে শান্ত জায়গায় বসার চেষ্টা করুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

প্যানিক অ্যাটাক সরাসরি প্রাণঘাতী নয়, তবে এটি জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। যদি আপনার ক্ষেত্রে এই আক্রমণ বারবার হতে থাকে, প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় কিংবা হার্ট অ্যাটাকের সংশয় তৈরি হয়, তবে একজন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist) বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। সঠিক থেরাপি (যেমন Cognitive Behavioral Therapy - CBT) ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের মাধ্যমে প্যানিক অ্যাটাক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator