১৫ বছরের দাম্পত্যের বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ও স্বামীর বিরুদ্ধে সেলিনা জেটলির বিস্ফোরক অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

১৫ বছরের দাম্পত্যের বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ও স্বামীর বিরুদ্ধে সেলিনা জেটলির বিস্ফোরক অভিযোগ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
১৫ বছরের দাম্পত্যের বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ও স্বামীর বিরুদ্ধে সেলিনা জেটলির বিস্ফোরক অভিযোগ..
১৫ বছরের দাম্পত্যের বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ও স্বামীর বিরুদ্ধে সেলিনা জেটলির বিস্ফোরক অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি তার স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় মানসিক নির্যাতন, সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।..

বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি এবং তার স্বামী পিটার হাগের দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে এক চরম আইনি ও মানসিক দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। গত বছরের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ফেরার পর অভিনেত্রী জানতে পারেন যে, তাদের বিবাহবার্ষিকীর উপহার হিসেবে আসা নথিপত্রগুলো আসলে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ। এই আকস্মিক পদক্ষেপে স্তম্ভিত সেলিনা আদালতের মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিলেও, পিটার হাগের পক্ষ থেকে আসা একের পর এক আইনি চাপে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। অভিনেত্রী দাবি করেছেন, তাকে শুধুমাত্র বিবাহবিচ্ছেদই নয়, বরং তার প্রাক-বিবাহ সম্পত্তি দখলের চেষ্টাসহ বিভিন্ন আইনি ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি কেবলমাত্র একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন নয়, বরং একজন মায়ের জন্য তার সন্তানদের অধিকার ও নিজের অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগের তীর সরাসরি পিটার হাগের দিকে নিক্ষেপ করে সেলিনা জানিয়েছেন, তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অযোগ্য মা হিসেবে প্রমাণ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তার ওপর নজরদারি চালানো হতো। সন্তানদের ছোটখাটো ভুল বা বকাঝকার মুহূর্তগুলো রেকর্ড করে তা আদালতে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেলিনার ভাষ্যমতে, তাকে আইনি লড়াই চালানোর জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করার মতো অবমাননাকর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এবং অস্ট্রিয়ার যৌথ ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের সুযোগও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, ভারতে থাকা তার নিজস্ব সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রচেষ্টা এবং সন্তানদের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সেলিনার জীবনের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরণের আঘাত হেনেছে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় রাত ১টার দিকে অস্ট্রিয়ার বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হওয়া সেলিনার এই বর্ণনা ভুক্তভোগীর অসহায়ত্বের চরম চিত্র তুলে ধরে।

সেলিনার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক-বিবাহ সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর থেকেই সন্তানদের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তার যমজ সন্তানরা তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের বাবা তাদের ওপর চিৎকার করে বলছেন মা তাদের ছেড়ে চলে গেছেন, যা শিশুদের ওপর এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে এক বছর পেরিয়ে গেলেও সন্তানদের যৌথ হেফাজত পাওয়ার লড়াইয়ে তিনি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন বিচারিক এলাকায় বিচারিক প্রক্রিয়া স্থানান্তরের মাধ্যমে তাকে দীর্ঘমেয়াদী আইনি হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে। যদিও এই ইস্যুতে পিটার হাগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সেলিনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা পোস্টগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও পারিবারিক অধিকারের প্রশ্নে বড় ধরনের নৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পরিশেষে, একজন বলিউড তারকা এবং চার সন্তানের জননী হিসেবে সেলিনা জেটলির এই লড়াই কেবল তার ব্যক্তিগত গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্তানদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং নারীর আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বকীয়তা হরণের যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার চেয়েও সন্তানদের সান্নিধ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন তার প্রধান লক্ষ্য। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, উচ্চবিত্ত বা তারকা দম্পতিদের পর্দার আড়ালের জীবনও অনেক সময় কতটা নিষ্ঠুর ও নিয়ন্ত্রণমূলক হতে পারে। সেলিনার এই সাহসী অবস্থান ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও আইনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার ওপর কতটুকু প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator