জ্বালানি মজুত তলানিতে ও ঋণের চাপে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকির পূর্বাভাস আইএমএফের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জ্বালানি মজুত তলানিতে ও ঋণের চাপে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকির পূর্বাভাস আইএমএফের..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জ্বালানি মজুত তলানিতে ও ঋণের চাপে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকির পূর্বাভাস আইএমএফের..
জ্বালানি মজুত তলানিতে ও ঋণের চাপে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকির পূর্বাভাস আইএমএফের..
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে জরুরি তেলের মজুত হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের বোঝা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।..

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ সম্প্রতি তাদের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ভয়াবহ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে আসা এবং সরকারি ঋণের পাহাড়সম চাপ বিশ্ববাজারকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ এবং জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে, তবে আইএমএফ স্পষ্ট করেছে যে, এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে আর কার্যকর থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মজুত কমে যাওয়ার অর্থ হলো ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলার সক্ষমতা বিশ্ববাসীর আর থাকবে না, যা সরাসরি উৎপাদন খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।

জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে থাকলে তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে। সংস্থাটি চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করলেও আগামী বছরের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ধীর গতির প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত হয় কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোয় সাইবার আক্রমণ বা সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটে, তবে খাদ্য ও জ্বালানির দাম আরও আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হলো মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী হওয়া, যা ইতিমধ্যেই ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হারকে আরও প্রকট করে তুলছে।

সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেছেন যে, অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে কালক্ষেপণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা মূল্যস্ফীতির সাময়িক বৃদ্ধিতে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের জন্য প্রস্তুত থাকে। পাশাপাশি জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক বিনিয়োগের যে হিড়িক শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছে, তাকেও আইএমএফ একটি বড় ধরনের ধসের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সরকারি পর্যায়ে ঋণের চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসের সন্ধানে জোর দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে সংস্থাটি। নীতিনির্ধারকদের এখন শুধু বর্তমান নয়, বরং আগামী বছরের ৪ দশমিক ১ শতাংশ সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে কঠোর অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

পরিশেষে, জ্বালানি খাতের এই নাজুক অবস্থা এবং ঋণের বোঝা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের সাধারণ মানুষের অর্থনীতিকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যদি দ্রুত কোনো টেকসই সমাধান বা ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসে, তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি কেবল প্রবৃদ্ধির হারেই পিছিয়ে পড়বে না, বরং দীর্ঘস্থায়ী মন্দার কবলে পড়ার সম্ভাবনাও প্রবল। জ্বালানি মজুত কমে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগ ঘিরে তৈরি হওয়া বুদবুদ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে সৃষ্ট ঝুঁকি আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, বরং প্রতিটি দেশের সরকারকে এখন থেকেই তাদের নিজস্ব মজুদ এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে জ্বালানি সংকটের চূড়ান্ত ধকল সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator