শিশুর অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ ঘটনা, শ্যামনগরে শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শিশুর অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ ঘটনা, শ্যামনগরে শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
শিশুর অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ ঘটনা, শ্যামনগরে শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা..
শিশুর অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ ঘটনা, শ্যামনগরে শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা..
ছবি: সংগৃহীত
গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তদের ‘গা ঢাকা’

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শিশুটির নানী বাদী হয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে শ্যামনগর থানায় গণধর্ষণ ও সাইবার আইনে মামলাটি করেন। অভিযুক্তরা হলেন গোমানতলী গ্রামের হযরত আলী (১৭), আবু হাসান (১৫) ও নুর আলম (৩৬)। তাঁদের মধ্যে নুর আলম স্থানীয় গোমানতলী কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনজনই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ধারণ করা নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হচ্ছিল। পরে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে ওই শিক্ষকও শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর জানা গেল অন্তঃসত্ত্বার বিষয়

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার সুড়িপাড়া গ্রামে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে সে নানীর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছে। তার মা সৌদি আরবে থাকেন।

পরিবারের ভাষ্য, শিশুটির অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন নজরে আসার পর গত ১০ অক্টোবর তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবার থানায় মামলা করে।

ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখানোর অভিযোগ

মামলার বাদীর অভিযোগ, হামিদ সরদারের ছেলে হযরত আলী ও শাহাজান সরদারের ছেলে আবু হাসান শিশুটির ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়িতে আসতেন। একপর্যায়ে গোসলের পর কাপড় পরিবর্তনের সময় শিশুটির গোপনে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন তাঁরা। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, হযরত আলী ও আবু হাসান তার সমবয়সী হওয়ায় প্রায়ই বাড়িতে আসতেন। গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁরা তাকে ধর্ষণ করতেন বলে সে অভিযোগ করেছে।

শিশুটির আরও অভিযোগ, তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সুযোগে শিক্ষক নুর আলম জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসায় তদন্ত কমিটি, অভিযুক্তদের মোবাইল বন্ধ

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষক নুর আলমের স্ত্রী ফোন রিসিভ করলেও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

গোমানতলী কামিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, শিশুটির নানী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে গেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিশুর সুরক্ষা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মামলার তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator