নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য, ধর্মের ভিত্তিতে নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য, ধর্মের ভিত্তিতে নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য, ধর্মের ভিত্তিতে নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান..
নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য, ধর্মের ভিত্তিতে নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান..
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।..

সোমবার ১২ অক্টোবর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমন্ত্রিত এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি ধর্মের চেয়ে নাগরিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, একজন সরকারপ্রধান হিসেবে তার সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা। জাতির ক্রান্তিলগ্নে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেখানে নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে কোনো ধরনের বিভাজন থাকা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের অধীনে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে নিরাপদ বোধ করছেন এবং জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়নি। নেতৃবৃন্দ পূজার ছুটি বৃদ্ধি এবং অনুদান প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম কখনোই বড় বাধা ছিল না। তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে তার দলের মুসলমান কর্মীদের মতো হিন্দু কর্মীরাও সমানভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নিপীড়নের কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকে না। ভুক্তভোগী সম্প্রদায়ের মানুষের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, সরকার গঠনের পর থেকেই তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন যে আল্লাহ তাকে দেশের সেবা করার একটি সুযোগ করে দিয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে, তা তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছারই প্রতিফলন। এছাড়া সভায় উপস্থিত ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। এই ধরনের নিয়মিত মতবিনিময় এবং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা মাঠ পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সার্বিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই অবস্থান কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি আশ্বাস নয়, বরং এটি একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার রাজনৈতিক ইশতেহার। নাগরিক অধিকারকে রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে নিয়ে আসার ফলে ভবিষ্যতে পরিবহন থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় সরকারের এই কঠোর অবস্থান পরিবহন খাতসহ অন্যান্য সেবামূলক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নাগরিক অধিকারের এই নিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশের সকল মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator