ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে বিরোধী জোটের পিটিশন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে বিরোধী জোটের পিটিশন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে বিরোধী জোটের পিটিশন..
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে বিরোধী জোটের পিটিশন..
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ব্যানারে দিল্লিতে বিশাল প্রতিবাদ পদযাত্রা ও সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।..

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হয়েছেন। বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’-র আহবানে ‘চলো দিল্লি-মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিরোধী জোটের নেতারা। সোমবার দুপুরে কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে একটি বাসে করে যাত্রা শুরু করে বারাখম্বার কাছে নেমে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ অন্যান্য নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো। রাজধানীর কনট প্লেস ও মান্ডি হাউসের মধ্যবর্তী সড়কগুলো প্রতিবাদকারীদের ঢলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং বিরোধী নেতাদের সরাসরি অভিযোগ। রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। রাহুল গান্ধী এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, জ্ঞানেশ কুমার নিজে এই অনিয়মের মূল হোতা না হলেও তিনি একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই অপরাধের দায়ভার স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। ভুক্তভোগী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, সংবিধান ও নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো পথ খোলা নেই।

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের এই আন্দোলন মোকাবিলায় দিল্লি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো পুরো রাজধানীজুড়ে হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখার পাশাপাশি শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ধাতব ব্যারিকেড বসিয়ে বিক্ষোভকারীদের গতিপথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। সরকারি পক্ষ বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না এলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই কড়াকড়ি প্রমাণ করে যে সরকার এই আন্দোলনকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে দেখছে। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে ভারতের প্রধান বিচারপতির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক পিটিশন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা আগামী দিনে ভারতের বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যকার সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ভারতের চলমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোটের এমন সরাসরি অবস্থান ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই আন্দোলনের চাপে কোনো ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন না আসে, তবে ভবিষ্যতে নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীজুড়ে চলা এই বিক্ষোভ এবং সরকারের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভারতের গণতান্ত্রিক চর্চায় এক নতুন উত্তেজনাকর অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যার সমাপ্তি নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন সিদ্ধান্তের ওপর।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator