লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদকে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানোর দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক (কেইউপি) উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ের দিনে তাঁকে আবারও বিদ্যালয়ে দেখতে চেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদের অবসর উপলক্ষে তাঁর শেষ কর্মদিবসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্ল্যাকার্ড হাতে বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়। পরে তারা প্রিয় শিক্ষককে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। কয়েকজন অভিভাবকও শিক্ষার্থীদের এ দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক নিজেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বুঝিয়ে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, খুরশীদুজ্জামান আহমেদের নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৭ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান ইংলিশ অলিম্পিয়াডে’ বিদ্যালয়টির দুই ছাত্রী অংশ নেয়। একই বছর একজন শিক্ষার্থী রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে নেপালে আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাবল প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২-এ রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।
তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় এই শিক্ষকের বিদায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তাঁকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদ বলেন, অবসরে যাওয়া চাকরিজীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। তবে শিক্ষার্থীরা আবেগের বশে তাঁকে আবারও দায়িত্বে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বদরুল হাসান বলেন, অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। বিধি অনুযায়ী প্রস্তাব পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা তাঁদের পছন্দের প্রধান শিক্ষককে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চাইলে আন্দোলনের পরিবর্তে ইউএনও অথবা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জানাতে পারে।