সৌদিতে হুথি হা'মলা'র আ'ত'ঙ্ক! তিন দিনে ৯ ফ্লাইট বাতিল.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সৌদিতে হুথি হা'মলা'র আ'ত'ঙ্ক! তিন দিনে ৯ ফ্লাইট বাতিল..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সৌদিতে হুথি হা'মলা'র আ'ত'ঙ্ক! তিন দিনে ৯ ফ্লাইট বাতিল..
সৌদিতে হুথি হা'মলা'র আ'ত'ঙ্ক! তিন দিনে ৯ ফ্লাইট বাতিল..
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার জেরে গত তিন দিনে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদগামী ৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে যাত্রা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিন হাজারের বেশি যাত্রী..

সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে গত শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রিয়াদগামী মোট ৯টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১টি, সৌদিয়ার ৩টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৩টি ফ্লাইট রয়েছে। মূলত নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় রিয়াদ বিমানবন্দরের আকাশসীমা ও কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে চালানো সর্বশেষ হামলায় অন্তত একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হওয়ার পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত পাঁচবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিমান চলাচল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের এই আকস্মিকতায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন মোট ৩০১২ জন যাত্রী, যাদের একটি বড় অংশ প্রবাসী কর্মী। বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়া যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বসংকেত ছাড়াই ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক যাত্রীই কর্মস্থলে ফেরার নির্ধারিত সময় পার করছেন, যা তাদের পেশাগত জীবনে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভাষ্যমতে, এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে পরবর্তী ফ্লাইটের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে সরাসরি হামলার পর থেকে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হুথিদের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারকারী যেকোনো এয়ারলাইন্সের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করলেও হুথিদের লক্ষ্যবস্তু ও হামলার ধরন দিন দিন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হলেও বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা রি-শিডিউলের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এখনো স্পষ্ট নয়। যাত্রী সাধারণের দাবি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ যেন সৌদি সরকারের সাথে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত বিকল্প রুট বা ফ্লাইটের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিমানবন্দরটি বর্তমানে একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ায় সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট বাতিলের এই সংকট কেবল যাত্রী ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির অস্থিতিশীলতার একটি বড় বহিঃপ্রকাশ। হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক আকাশপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর প্রভাব পড়ছে সৌদি-বাংলাদেশ আকাশপথে। যদি এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানি ও ব্যবসায়িক যোগাযোগে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আকাশপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় আকাশপথে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator