রাণীশংকৈলে কন্যাশিশু দিবস পালিত: অধিকার সুরক্ষা ও বৈষম্য নিরসনে জোর প্রশাসনের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাণীশংকৈলে কন্যাশিশু দিবস পালিত: অধিকার সুরক্ষা ও বৈষম্য নিরসনে জোর প্রশাসনের..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
রাণীশংকৈলে কন্যাশিশু দিবস পালিত: অধিকার সুরক্ষা ও বৈষম্য নিরসনে জোর প্রশাসনের..
রাণীশংকৈলে কন্যাশিশু দিবস পালিত: অধিকার সুরক্ষা ও বৈষম্য নিরসনে জোর প্রশাসনের..
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুকন্যাদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।..

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উদযাপনের মূল লক্ষ্য ছিল কন্যাশিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করে তোলা। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা, সুশিক্ষা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মূলত, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় কন্যাশিশুরা যে সকল প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়, তা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা কন্যাশিশুদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় পরিবারের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পৌর বিএনপির সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহাজান আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বকুল মজুমদার, সিনিয়র সহসভাপতি নুরনবী, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি সাবেক চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিজানুর মাস্টারসহ অন্যান্যরা তাদের বক্তব্যে কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য রোধে কঠোর সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বক্তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র আইন করে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, বরং পরিবার ও সমাজ থেকে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য মুছে ফেলে তাদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার এই উদ্যোগটি স্থানীয় মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কন্যাশিশুদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ থেকে তাদের রক্ষা করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সভায় নিশ্চিত করেছেন যে, প্রান্তিক পর্যায়ে কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় সরকারি যে সকল সহায়তা বা আইনি সুরক্ষা বলয় রয়েছে, তা যেন প্রতিটি পরিবার পর্যন্ত পৌঁছায়, সে বিষয়ে তারা কঠোর তদারকি করবেন। স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিপরীতে নাগরিক সমাজ মনে করে, কেবল দিবসকেন্দ্রিক আলোচনা নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে নিয়মিত মনিটরিং এবং আইনি সহায়তা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন উপস্থিত অভিভাবকরা।

পরিশেষে, রাণীশংকৈলের এই আয়োজনটি কন্যাশিশুদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তা তাদের ভবিষ্যৎ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই ধরনের আয়োজনের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কন্যাশিশুদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর। যদি স্থানীয় প্রশাসন ও অভিভাবক মহল সম্মিলিতভাবে কন্যাশিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে, তবেই জাতীয় পর্যায়ে কন্যাশিশু দিবসের মূল উদ্দেশ্য সফল হবে এবং ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে উঠবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator