মধ্যপ্রাচ্যের আরব উপদ্বীপ ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে এই মুহূর্তে এক অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ভূমধ্যসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগর—এই চার সাগরের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একসঙ্গে এত বড় সংঘাত আধুনিক ইতিহাসের পাতায় বিরল। হামাস, হিজবুল্লাহ, লিবিয়া, ইয়েমেন, লেবানন এবং ইসরায়েলের মধ্যকার এই দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব এখন এমন এক মোড়ে এসে পৌঁছেছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পুরো আরব বিশ্বে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে অত্যন্ত শক্তিশালী ও নজিরবিহীন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ ও ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, যার ফলে তৈরি হয়েছে এক থমথমে পরিস্থিতি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটে সৌদি আরব ও পশ্চিমা দেশগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধিষ্ণু সামরিক সক্ষমতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কথিত ‘মক্কা প্যাক্ট’-এর আওতায় সৌদি আরব ও পবিত্র দুই মসজিদ রক্ষার্থে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে সেনা পাঠানোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির চরম আবহাওয়া ও জটিল গেরিলা যুদ্ধের কৌশলগত বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে জড়িয়ে ফেলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের দূরবর্তী দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
পরিশেষে, পশ্চিমা শক্তির প্ররোচনা বা প্রেসক্রিপশনে নয়; বরং কূটনৈতিক ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের অবসান ঘটুক এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরে আসুক—এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্ববাসীর।