নিরাপত্তা সংকটে সৌদি আরব: ই*সরাই* লের সাথে গোপন কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নিরাপত্তা সংকটে সৌদি আরব: ই*সরাই* লের সাথে গোপন কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
নিরাপত্তা সংকটে সৌদি আরব: ই*সরাই* লের সাথে গোপন কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণ..
নিরাপত্তা সংকটে সৌদি আরব: ই*সরাই* লের সাথে গোপন কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণ..
ছবি: সংগৃহীত
হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং মার্কিন সামরিক সহায়তার অনিশ্চয়তার মুখে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরাইলের সাথে পর্দার আড়ালে সহযোগিতার পথে হাঁটছে কি না, তা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নতুন মোড় ..

মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব বর্তমানে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা রিয়াদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত ১০ অক্টোবর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনাটি সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। একইসাথে হরমুজ প্রণালি ও ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হুথিদের অব্যাহত নাশকতায় দেশটির তেল বাণিজ্য ও লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষায় নতুন কোনো শক্তিশালী মিত্র খোঁজার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের অঘোষিত শত্রুরাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে কৌশলগত সমন্বয়ের পথকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

সৌদি আরবের জন্য এই পরিস্থিতি কেবল বাহ্যিক আক্রমণের নয়, বরং কৌশলগত বিচ্ছিন্নতারও। ঐতিহ্যগত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় রিয়াদ এক ধরনের নিরাপত্তা শূন্যতায় ভুগছে। যদিও পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত জোরালো সমর্থন না পাওয়ায় সৌদি নেতৃত্বকে বিকল্প পথ ভাবতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান সমর্থিত হুথিদের সামরিক তৎপরতা ঠেকাতে ইসরাইলের উন্নত প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক রিয়াদের জন্য কার্যকর সমাধান হতে পারে। ফলে প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঝুঁকি না নিয়েও, অভিন্ন শত্রু ইরানকে মোকাবিলায় সৌদি আরব পর্দার আড়ালে ইসরাইলের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা শেয়ারিংয়ের মতো নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই কৌশলগত পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ জনমত। রিয়াদ বরাবরই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া ইসরাইলের সাথে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বুঝতে পারছে যে, মুসলিম বিশ্বে নিজেদের প্রভাব ও ধর্মীয় ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ইসরাইলের সাথে প্রকাশ্য সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ একটি বড় রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল হতে পারে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাদের অনমনীয় অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের কোনো সহজ পথ বর্তমানে দৃশ্যমান নয়। ফলে রিয়াদ আপাতত তাদের নিরাপত্তা কৌশলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতির পরিবর্তে কেবল গোপন প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহযোগিতার চৌহদ্দিতেই সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

পরিশেষে, সৌদি আরবের এই নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন মেরুকরণকেও উসকে দিচ্ছে। হুথিদের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের সাথে কতটা ঘনিষ্ঠতায় যাবে, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরাইলি অবস্থানের ওপর। যদি মার্কিন সহায়তা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তবে রিয়াদ বাধ্য হয়েই ইসরাইলের সাথে সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও জটিল অধ্যায়ের সূচনা করবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি আরবের এই কৌশলগত রক্ষণশীলতা ও আপোষের মধ্যবর্তী অবস্থান আগামী দিনে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

No se encontraron comentarios


News Card Generator