দিল্লিতে বিরোধী দলের বিক্ষোভ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্ধ ছয় মেট্রো স্টেশন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিল্লিতে বিরোধী দলের বিক্ষোভ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্ধ ছয় মেট্রো স্টেশন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দিল্লিতে বিরোধী দলের বিক্ষোভ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্ধ ছয় মেট্রো স্টেশন..
দিল্লিতে বিরোধী দলের বিক্ষোভ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্ধ ছয় মেট্রো স্টেশন..
ছবি: সংগৃহীত
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলোর ডাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ছয়টি মেট্রো স্টেশন..

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনে সোমবার দিল্লির কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির লুটিয়েন্স এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো এলাকাটি বর্তমানে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং সংবেদনশীল মোড়গুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

বিক্ষোভের ডাক দেওয়া বিরোধী দলের নেতাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বড় ধরনের কারচুপি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চাকে সংকুচিত করা হচ্ছে। যন্তর মন্তরসহ বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার প্রতিটি সংযোগ সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে। আন্দোলনরতদের মতে, প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান কেবল তাদের কণ্ঠরোধ করার একটি পরিকল্পিত কৌশল। মধ্য দিল্লির ২০টি জোনকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে প্রতিটি জোনের দায়িত্বে ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতি কতটা উত্তপ্ত তা স্পষ্ট করে দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট গত রবিবার এক নির্দেশে জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইন-নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া আটক করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশ সত্ত্বেও দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে স্টেশন বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ৩৭টি স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, বিক্ষোভের আড়ালে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা না ঘটে, সেজন্যই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরও প্রশাসনের এই অতি-সতর্কতা মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই কঠোর নিরাপত্তাবলয় এবং মেট্রো পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার ফলে দিল্লির সাধারণ নাগরিক ও কর্মজীবীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিক্ষোভ ও পাল্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই রেষারেষি ভবিষ্যতে দিল্লির পরিবহন খাতে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণতন্ত্রের দাবি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত জনদুর্ভোগ কতটা দীর্ঘায়িত হয়, তা এখন দেখার বিষয়। রাজপথের এই উত্তাপ জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে কতটা পরিবর্তন আনবে, তা আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator