আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ? | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ?

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ?
আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ?
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সম্মেলনে নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, যেখানে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার শর্তাবলী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।..

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক আলোচনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে নিশ্চিত করেছেন যে, আইএমএফের প্রস্তাবিত কর্মসূচির শর্তাবলির বড় একটি অংশের সঙ্গে সরকার নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। গত মে মাস থেকে চলমান এই দর-কষাকষির মূল লক্ষ্য হলো ৪৫০ কোটি ডলারের একটি নতুন ঋণ প্যাকেজ নিশ্চিত করা, যা দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। ১৯১টি দেশের ১৫ হাজার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে, যা আইএমএফের সঙ্গে নতুন চুক্তির পথকে আরও প্রশস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।

নতুন এই ঋণচুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আইএমএফের অবস্থান আগের চেয়ে আরও বেশি রক্ষণশীল এবং কঠোর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সংস্থাটি মূলত ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং জাতীয় পরিসংখ্যানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের শর্তটি এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো চুক্তির ব্যর্থতা বা অসম্পূর্ণতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আইএমএফ এবার সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। সরকারি পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা এবং আর্থিক খাতের সুশাসন নিয়ে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে, তা নিরসনে আইএমএফের এই কঠোর অবস্থান দেশের নীতিনির্ধারকদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, নতুন কর্মসূচির আওতায় সংস্কারের যে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা ছাড়া বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের বিকল্প নেই। তবে আইএমএফের শর্ত মেনে ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সরকার কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করলেও, আইএমএফের পক্ষ থেকে গ্রিন ফাইন্যান্স এবং প্রযুক্তিগত সংস্কারের যে দাবি জানানো হয়েছে, তা পূরণে সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে অতীতে অনেক বড় সংস্কার কর্মসূচিই আলোর মুখ দেখেনি, যা এবার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সামগ্রিক বিবেচনায়, ব্যাংককের এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪৫০ কোটি ডলারের এই ঋণ সহায়তার ওপর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভরশীল। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া এই আশ্বাস যদি কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ না পায়, তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটের মুখে পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কেবল ঋণ প্রাপ্তিই বড় সাফল্য নয়, বরং এই ঋণের শর্ত পূরণের মাধ্যমে দেশের আর্থিক কাঠামোর যে আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, তা কতটা টেকসই হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনৈতিক গতিপথ এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার সক্ষমতা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator