সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.৪৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৬৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ডিজেল চুক্তি
তেলের দাম কমার পেছনে কেবল যুদ্ধবিরতির চুক্তির প্রভাবই নয়, বরং মার্কিন বাজারের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের বড় চুক্তিও ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, বিশ্ববাজার ও যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা মেটাতে রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ শুরু করবে। চুক্তি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আগামী নভেম্বর মাসে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে মস্কো।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় রয়ে গেছে শঙ্কা
রাশিয়া-ইউক্রেনের এই সমঝোতায় বিশ্ববাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় ধরনের ঝুঁকি এখনও কাটেনি বলে সতর্ক করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একের পর এক ড্রোন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের যৌথ পাল্টা সামরিক ব্যবস্থার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বড় ঝুঁকি রয়ে গেছে।
ফলশ্রুতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তি তেলের দামে সাময়িক নিম্নমুখী প্রভাব ফেললেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে সার্বিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এখনও গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে।