শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরায় স্বত্ব-দখলীয় বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে প্রীতিভোজের আয়োজন চলাকালে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজন আহত হয়েছেন। স্বামীকে উদ্ধারে গেলে তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দাখিলের কথা জানিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ইন্দিরা গ্রামের মো. আব্দুল জলিলের স্ত্রী মোছা. রুমা পারভীন (৩২)।
লিখিত বক্তব্যে রুমা পারভীন বলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমানের ছেলে মো. জাহিদ হাসান (২৬), মৃত আব্দুল গাজীর ছেলে লুৎফর রহমান (৫০) এবং মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল গফুরের (৪০) সঙ্গে তাঁদের স্বত্ব-দখলীয় বসতবাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই বিরোধের জের ধরে গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁদের বাড়িতে প্রীতিভোজের আয়োজন চলাকালে অভিযুক্তরা লোহার রড, হাতুড়ি ও ধারালো দা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁদের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাঁর স্বামী আব্দুল জলিলকে রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রুমা পারভীন আরও বলেন, স্বামীর চিৎকার শুনে তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁকেও মারধর করেন। একপর্যায়ে জাহিদ হাসান তাঁর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।
সংবাদ সম্মেলনে রুমা পারভীন জানান, এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তরা তাঁদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী এই নারী।
তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।