সহকারী শিক্ষকের স্বামীর বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সহকারী শিক্ষকের স্বামীর বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী..

Md Elias Ali avatar   
Md Elias Ali
সহকারী শিক্ষকের স্বামীর বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী..
সহকারী শিক্ষকের স্বামীর বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী..
ছবি: সংগৃহীত
ভুক্তভোগী শিক্ষকের ছবি
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
 
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর কে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। 
 
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
 
অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী মশিউর রহমান।
 
শিক্ষার্থীর অভিভাবক হামিদুর রহমান জানান, মশিউর রহমান প্রায়ই বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস নেওয়ার নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। নিজেকে প্রধান শিক্ষকের মতো জাহির করার চেষ্টা করেন। তিনি বিদ্যালয়ে এসে অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের চেয়ারে আসে বসেন। তিনি এর আগেও কয়েকবার বিদ্যালয়ে এসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটিয়েছেন। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
 
স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সবুর স্যার স্কুলে আসার পরে লেখাপড়ার মান অনেক ভালো হয়েছে। তবে মশিউর এর বাড়ির কাছে স্কুলটি হওয়ায় সে এখানে প্রভাব বিস্তার করছে। আমরা মশিউর এর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এর এই বিদ্যালয় থেকে বদলি করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। 
 
স্থানীয়রা আরও জানান,  কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের ওয়াইফাই রাউটার নিজেই খুলে নিয়ে যান মশিউর এবং প্রধান শিক্ষককে এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাপ দেন।
 
ভুক্তভোগী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর বলেন, “সকাল ৯টায় স্কুলে এসে হাজিরা দিয়ে আমার বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আবার বিদ্যালয়ে ফিরি। কিছুক্ষণ পর সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী মশিউর এসে জিজ্ঞেস করে সহকারী শিক্ষক রাসেদ কেন সাড়ে ৯টায় স্কুলে এসেছে। আমি বলি সে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় গিয়েছিল, তাই আধা ঘণ্টা দেরি হয়েছে। এ কথা বলতেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার গেঞ্জির কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বাইরে এনে মারধর করে। আমি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে।” আমি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য এখন হাসপাতালে যাব।
 
ঘটনার পর তিনি বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশকে মুঠোফোনে অবগত করেছেন।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযুক্ত মশিউর রহমানের বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
 
সহকারী শিক্ষক রাশেদ আলী বলেন, “আমি ঢাকায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম, ট্রেন দেরি করায় স্কুলে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টা দেরি হয়। আমি হেড স্যারকে ফোনে জানিয়েছিলাম। আমার দেরি করে আসাকে কেন্দ্র করেই তাদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে মারামারি হয়। আমি ও স্থানীয়রা এসে তাদের থামাই। তবে স্কুলে বাইরের লোক এসে মারামারি করা কখনোই কাম্য নয়।”
 
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
 
বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই আনসার আলী জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
 
এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator