এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন ট্রলিটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
নিহত আবিদ হাসান ওই এলাকার আশিদুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে দুই শিশুসঙ্গীর সঙ্গে খেলছিল আবিদ। এ সময় পুকুরের মালিক মামুন সেখানে মাছ ধরছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পুকুরের পানি ছিটানোর পর তিন শিশু দৌড়ে রাস্তার দিকে চলে যায়। এ সময় অন্য দুই শিশু রক্ষা পেলেও ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয় আবিদ। এতে গুরুতর আহত হয় সে।
পরে ট্রলিচালক শিশুটিকে উদ্ধার করে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুকুরের পানি ছিটানো নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও শিশুদের গায়ে পানি ছিটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুকুরের মালিক মামুন। তিনি বলেন, ‘আমি পুকুরে মাছ ধরছিলাম ঠিকই, কিন্তু শিশুদের গায়ে পানি ছিটাইনি।’
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলিটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাছেত সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারও অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ ঘটনায় কারও অবহেলা বা বেপরোয়া চালনার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা হবে।
চার বছরের শিশুর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি শিশুর অকালমৃত্যুতে শোকের ভার নেমে এসেছে পরিবারটিতে। একই সঙ্গে ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।