রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
মামলার পটভূমি ও রিমান্ড শুনানি
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল চার আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক গত ১০ অক্টোবর এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সেখানকার একটি দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
‘জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে এই প্রতিকৃতিগুলো আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে ছবি আঁকার সমালোচনা করা হয়। এর জেরে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের’ ব্যানারে আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে ওই প্রতিকৃতিগুলো মুছতে শুরু করেন।
এ সময় এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানানোর স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।