ক্যানসারে আক্রান্ত সাবেক ছাত্রলীগ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ক্যানসারে আক্রান্ত সাবেক ছাত্রলীগ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ক্যানসারে আক্রান্ত সাবেক ছাত্রলীগ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন..
ক্যানসারে আক্রান্ত সাবেক ছাত্রলীগ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।..

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত অতিক্রম করে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। দীর্ঘকাল ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার পর ভারতের কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের মৃত্যু হয়। গত ১০ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল সোয়া সাতটার দিকে হাসপাতালটিতে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট তিনি বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গমন করেছিলেন বলে কলকাতা স্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে। তার মৃত্যু ও মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে উপ-হাইকমিশন প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র ও আইনি সহায়তা প্রদান করে, যার ভিত্তিতেই লাশটি সড়কপথে বাংলাদেশে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। মরদেহ গ্রহণ করেছেন তার বড় ভাই নাসিমুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন এবং ভাগ্নে সোহানুর রহমান। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ পাহারায় মরদেহটি পরবর্তী গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রোটনের মৃত্যু পরবর্তী মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ঘিরে বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। সীমান্ত এলাকাটি সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়। মরদেহ গ্রহণের সময় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রোটনের মৃত্যু এবং তার দেশত্যাগ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগস্ট মাসে তার দেশত্যাগের বিষয়টি ছিল আলোচিত। তার অসুস্থতা এবং বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন অবস্থার বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া গেলেও, দীর্ঘদিনের ক্যানসারের সাথে লড়াই করে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মরদেহ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়নি এবং দূতাবাসের সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাশ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মাহমুদ হাসান রিপনের সাথে সেই কমিটিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনকারী রোটন পরবর্তীতে মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। চট্টগ্রামের রাউজান অঞ্চলের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং ২০২১ সালে দলের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। তার মৃত্যুতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার প্রস্থানকে ঘিরে জনমনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে মরদেহ পরিবহনে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।

রোটনের মরদেহ দেশে ফেরার মাধ্যমে তার জীবনের শেষ অধ্যায়ের যবনিকা ঘটল, তবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান। একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রোটনের মৃত্যু পরিবহন ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মরদেহ হস্তান্তরের সময় প্রশাসনের এই বিশাল উপস্থিতি এবং নিরাপত্তার ব্যাপক আয়োজন নির্দেশ করে যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেকোনো স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন কতটুকু সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তার মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব এবং তার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের মূল্যায়ন নতুন করে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হওয়া এবং সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator