তৈদুছড়ার রূপ ও প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য
ত্রিপুরা ভাষায় ‘তৈদু’ মানে পানির ফোয়ারা বা নদী, আর ‘ছড়া’ মানে তো ঝরনা। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া এই তৈদুছড়ায় আসলে রয়েছে পরপর দুটি বিশাল ও অপূর্ব ঝরনা, যাকে স্থানীয়রা তৈদুছড়া ১ এবং তৈদুছড়া ২ বলে থাকেন। ঘন সবুজ জঙ্গল, সুবিশাল পাথরের দেওয়াল আর সেই পাথর বেয়ে নেমে আসা ধোঁয়াটে জলের ধারা এক স্বপ্নিল আবহ তৈরি করে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এখানকার উঁচু-নিচু পাথুরে ধাপগুলো, যার ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়া শান্ত জলরাশি দেখতে ঠিক যেন সিঁড়ির মতো মনে হয়।
ট্র্যাকিং ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা
যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য তৈদুছড়া এক আদর্শ গন্তব্য। সাজেক বা অন্যান্য বাণিজ্যিক পর্যটনকেন্দ্রের মতো এখানে সরাসরি গাড়ি নিয়ে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে পথ শুরু করে বেশ কিছু পথ পায়ে হেঁটে, পাহাড়ি নদী ও ঝিরিপথ পার হয়ে তবেই পৌঁছাতে হয় এই রূপসী ঝরনার কাছে। হাঁটার পথের গা ছমছমে নীরবতা, পাখির ডাক এবং স্থানীয় আদিবাসী পল্লীর পাহাড়ি জীবনযাত্রা ভ্রমণার্থীদের এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।
কেন এটি এখনও অবহেলিত বা কম পরিচিত?
সাজেকের মতো ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা না থাকা এবং দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সাধারণ পর্যটকরা তৈদুছড়াকে তাদের ভ্রমণ তালিকায় খুব একটা রাখেন না। তবে সঠিক দিকনির্দেশনা, নিরাপত্তার সুব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন (Ecotourism) হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তৈদুছড়া হতে পারে দেশের পর্যটন খাতের এক নতুন সম্ভাবনার নাম।
কীভাবে যাবেন ও সতর্কতা
-
যাতায়াত: ঢাকা থেকে প্রথমে বাসে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে চান্দের গাড়ি বা সিএনজিযোগে দিঘীনালা হয়ে সীমানা পাড়া বা পোয়াংবাড়ি যেতে হবে। সেখান থেকে একজন স্থানীয় গাইড নিয়ে ট্র্যাকিং শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
-
সতর্কতা: বর্ষাকালে ঝিরিপথের পানি বৃদ্ধি পায় এবং পাথর পিচ্ছিল থাকে, তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও গ্রিপযুক্ত জুতো সঙ্গে রাখা জরুরি। এছাড়া পাহাড়ি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি গিয়ে হারিয়ে যেতে চাইলে খাগড়াছড়ির এই নির্জন ‘তৈদুছড়া ঝরনা’ হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের সেরা অভিজ্ঞতা।