ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মনন: স্যার আইজ্যাক নিউটন, যিনি বদলে দিয়েছিলেন আমাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মনন: স্যার আইজ্যাক নিউটন, যিনি বদলে দিয়েছিলেন আমাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মনন: স্যার আইজ্যাক নিউটন, যিনি বদলে দিয়েছিলেন আমাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি..
ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মনন: স্যার আইজ্যাক নিউটন, যিনি বদলে দিয়েছিলেন আমাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি..
ছবি: সংগৃহীত
মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় এমন কিছু বিরল প্রতিভা জন্ম নেয়, যারা কেবল নিজেদের সময়কেই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পুরো চিন্তাধারাকে বদলে দেন। ১৬৪৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া স্..

আপেলের পতন থেকে মহাবিশ্বের রহস্যভেদ

নিউটনকে নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রবাদটি হলো একটি আপেলের গাছ থেকে নিচে পড়ার দৃশ্য দেখে তাঁর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সূত্র আবিষ্কার। ঘটনাটি সত্য হোক বা কিংবদন্তি, এই সাধারণ একটি পর্যবেক্ষণই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল মহাবিশ্বের গভীরে। তিনি আবিষ্কার করেন ‘সার্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র’ (Universal Gravitation), যা দিয়ে পৃথিবীর টান থেকে শুরু করে মহাশূন্যের গ্রহ-নক্ষত্রের ঘূর্ণন—সবকিছুকে এক সুতোয় গেঁথে ফেললেন। তিনি প্রমাণ করলেন যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করছে।

বিজ্ঞানের জগতে যুগান্তকারী বিপ্লব

নিউটন কেবল মাধ্যাকর্ষণ সূত্রেই থেমে থাকেননি। বিজ্ঞান ও গণিতকে তিনি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যান যা আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে:

  • গতির সূত্রাবলি: ক্লাসিক্যাল মেকানিকস বা বলবিদ্যার তিনটি মৌলিক সূত্র আবিষ্কার করেন, যা আজও পদার্থবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি।

  • ক্যালকুলাস: গণিতের একটি জটিল শাখা ‘ক্যালকুলাস’ স্বাধীনভাবে আবিষ্কার করেন, যা ছাড়া আধুনিক প্রকৌশল ও উচ্চতর গণিত কল্পনা করা যায় না।

  • অপটিকস বা আলো নিয়ে গবেষণা: প্রিজমের সাহায্যে সাদা আলোকে সাতটি রঙে বিভক্ত করে তিনি প্রমাণ করেন যে আলোর আসল রূপ কেমন। এছাড়া তিনি নিজেই উদ্ভাবন করেন ‘রিফ্লেক্টিং টেলিস্কোপ’ বা প্রতিফলন দূরবীন।

এক অন্তর্মুখী জেনিিয়াসের জীবন

নিউটন শুধু একজন বিজ্ঞানী ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক গভীর মননশীল দার্শনিক। তাঁর বিখ্যাত একটি উক্তি আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে—“আমি যদি অন্যদের চেয়ে দূরে দেখতে পেয়ে থাকি, তবে তা সম্ভব হয়েছে দানবদের কাঁধে চড়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলে।” এর মাধ্যমে তিনি পূর্বসূরি বিজ্ঞানীদের প্রতি তাঁর বিনম্র শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করেছিলেন। জীবনের শেষভাগে তিনি রয়্যাল মিন্ট বা মুদ্রাস্ফীতির তদারকিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ইতিহাসের পাতায় তাঁর চিরন্তন আসন

১৭২৭ সালে এই মহান মনীষী মৃত্যুবরণ করলেও তাঁর বৈপ্লবিক আবিষ্কারগুলোর ফল আমরা আজও প্রতি মুহূর্তে ভোগ করছি। আধুনিক প্রকৌশল, মহাকাশ গবেষণা, জিপিএস প্রযুক্তি—সবকিছুর মূলে রয়েছে নিউটনের রেখে যাওয়া সেই সূত্রগুলো। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানুষ বা মনীষীদের কথা যখনই আসে, তখন আইজ্যাক নিউটনের নাম সগৌরবে সবার ওপরে জ্বলজ্বল করে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator