সাড়ে ৩১ কোটি টাকা বাজেটে ৪২০ কোটি আয়! কোন জাদুতে রেকর্ড গড়ল এই সিনেমা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাড়ে ৩১ কোটি টাকা বাজেটে ৪২০ কোটি আয়! কোন জাদুতে রেকর্ড গড়ল এই সিনেমা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সাড়ে ৩১ কোটি টাকা বাজেটে ৪২০ কোটি আয়! কোন জাদুতে রেকর্ড গড়ল এই সিনেমা..
সাড়ে ৩১ কোটি টাকা বাজেটে ৪২০ কোটি আয়! কোন জাদুতে রেকর্ড গড়ল এই সিনেমা..
ছবি: সংগৃহীত
নিভিন পাউলি অভিনীত ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ মাত্র ২৬ দিনে বিশ্বব্যাপী ৪২০ কোটি টাকা আয় করে মালয়ালম সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে।..

মালয়ালম চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’। মাত্র ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা (২৫ কোটি রুপি) বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির ২৬তম দিনে বিশ্বব্যাপী ৩১০ কোটি ৫৫ লাখ রুপি বা প্রায় ৪২০ কোটি টাকা আয় করে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’ সিনেমাটি ৩০১ কোটি ৪১ লাখ রুপি আয় করে শীর্ষে ছিল, যা বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি শুধু ভারতেই ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ রুপি নেট আয় করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি সংগ্রহ করেছে। প্রতিদিনের প্রদর্শনীতে দর্শক উপস্থিতি এবং চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রমাণ করে যে, সাধারণ দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। মালয়ালম সংস্করণের পাশাপাশি তামিল ও তেলুগু সংস্করণগুলোও ব্যবসায়িক এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে, যা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সিনেমাটির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এর গল্প বলার ধরণ এবং পারিবারিক দর্শকদের সম্পৃক্ততা। অভিনেতা নিভিন পাউলি এবং মামিথা বাইজু অভিনীত এই সিনেমাটিতে বয়সের ব্যবধান থাকা প্রেমের গল্পের পাশাপাশি হাস্যরস ও পারিবারিক টানাপোড়েনকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দর্শক কেন এই সিনেমাটি গ্রহণ করেছে, তার বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, প্রচলিত রোমান্টিক ঘরানার নায়কের মতো অতি-মানবীয় চরিত্রের পরিবর্তে এখানে জাস্টিন নামক কেন্দ্রীয় চরিত্রটিকে দ্বিধাগ্রস্ত ও সাধারণ মানুষের মতোই উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিচালক গিরিশ এ ডি তার পূর্ববর্তী কাজের ধারাবাহিকতায় এবারও পরিচিত জীবনের জটিলতা ও রসবোধকে পর্দায় তুলে এনেছেন, যা দর্শকদের সঙ্গে এক ধরনের মানসিক সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসে বসবাসকারী মালয়ালম ভাষাভাষী দর্শকদের কাছে নিজেদের শেকড়, পরিচিত পরিবেশ এবং পারিবারিক সম্পর্কের এই প্রতিফলন একটি বড় আবেগীয় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলী এবং বিপণন কৌশল ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। প্রযোজক দিলীশ পোথান, ফাহাদ ফাসিল ও শ্যাম পুষ্করণের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই ছবিটি কেবল মালয়ালম দর্শকদের ওপর নির্ভর না থেকে বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং করার মাধ্যমে বৃহত্তর বাজারের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে। বক্স অফিসের হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৫২ কোটি ৩০ লাখ রুপি আয়ের মাধ্যমে যে গতির সূচনা হয়েছিল, তা চতুর্থ সপ্তাহে এসেও খুব একটা মন্থর হয়নি। যদিও বিভিন্ন পর্যায়ে প্রদর্শনী সংখ্যা এবং দর্শক উপস্থিতির হারে তারতম্য দেখা গেছে, তবুও সামগ্রিকভাবে সিনেমাটি মালয়ালম চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সমালোচকদের মতে, বড় বাজেটের তারকা নির্ভর সিনেমার চেয়েও একটি শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং দর্শকদের অনুভূতির সঙ্গে মিশে থাকা গল্পের আবেদন যে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে, এই সিনেমাটি তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

পরিশেষে বলা যায়, ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর এই জয়জয়কার মালয়ালম চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এটি একদিকে যেমন নিভিন পাউলির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্যে পরিণত হয়েছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে আঞ্চলিক সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা ও লাভের অংক নিয়ে তৈরি হওয়া প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছে। স্বল্প বাজেটে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার এই মডেলটি ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রযোজনা সংস্থার জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তবে এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে হলে একই ধরনের সৃজনশীল ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, পরিবারের দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই সিনেমাটি একটি সফল ব্লু-প্রিন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে, যা আগামী দিনগুলোতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সামগ্রিক বাজার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator